ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

যেসব নেতার স্ত্রী-কন্যারা পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৫:১৪:১৭
যেসব নেতার স্ত্রী-কন্যারা পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন।

ঘোষিত এই মনোনয়ন তালিকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার স্ত্রী ও কন্যার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকা প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী, চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন।

এছাড়াও তালিকায় আরও অনেক পরিচিত ও নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সেলিমা রহমান, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, জীবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এবার ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়েছে প্রায় ৯০০টি ফরম। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল দুই হাজার টাকা এবং ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি ত্যাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় নেতাদের স্বজনদের উপস্থিতি থাকায় ‘পরিবারতন্ত্র’ বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সামনে নির্বাচনকে ঘিরে এই মনোনয়ন তালিকা রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে