ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি লাইসেন্স সমর্পণ করছে ব্র্যাক ব্যাংক

২০২৬ এপ্রিল ০১ ২৩:২৮:৫৩
মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি লাইসেন্স সমর্পণ করছে ব্র্যাক ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: হালনাগাদ করা সরকারি বিধিমালার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি নিবন্ধন বা লাইসেন্স সমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির এই পদক্ষেপ দেশের ধুঁকতে থাকা ফান্ড ম্যানেজমেন্ট শিল্পে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংক ট্রাস্টি হিসেবে তাদের নিবন্ধন বাতিলের জন্য ইতিবাচক সাড়া চেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছে। ব্যাংকটি অংশীজনদের অবগতির জন্য ইতিমধ্যে এই লাইসেন্স সমর্পণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক একই ফান্ডের কাস্টোডিয়ান এবং ট্রাস্টি—উভয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। ব্র্যাক ব্যাংক মূলত কাস্টোডিয়ান হিসেবেই বেশি সক্রিয় এবং তারা কখনো সরাসরি ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেনি। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে পূর্ণ কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে তারা কাস্টোডিয়ান হিসেবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং গ্রামীণ ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছে। ব্র্যাক ব্যাংকের মতো সুশাসিত এবং স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের এই খাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, যেখানে এই খাতটি আগে থেকেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত, সেখানে ব্র্যাক ব্যাংকের মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্থান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে ফান্ডের সম্পদ মূল্য বা এনএভি আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৮টি ক্লোজ-এন্ড এবং ৯০টি ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড সচল রয়েছে। ক্লোজ-এন্ড ফান্ডগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা এবং ওপেন-এন্ড ফান্ডগুলোর সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতের সামগ্রিক বাজারমূল্য অনেকটা কমে গেছে। এর ফলে নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়েছে অনেক ফান্ড। আগামী অর্থবছরগুলোতে এই খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে