ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

হাদির সঙ্গে যে ইউটিউবারকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়!

২০২৬ মার্চ ১০ ১৯:১৩:৪৯
হাদির সঙ্গে যে ইউটিউবারকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেয় ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লব।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ জবানবন্দির বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি এ তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রুবেল আহমেদ সেই হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান রাখতেন।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক হোটেলের একটি সভায় রুবেল ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি আত্মগোপনে যান। এর ফলে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই কারণে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজানের নির্দেশনায় এক অভিযানে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ গভীর রাতে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ৩০ এপ্রিল ২০২৫ রুবেল আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে বের হন। কিন্তু ২১ জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাতে তাকে আবারও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারণ, হাদি হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রুবেলকে চিহ্নিত করা হয়।

রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ রুবেল আহমেদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রনেতা ওসমান হাদি এবং ইউটিউবার কাফিকে হত্যা করার নির্দেশ দেন ভারতে পলাতক নানকের সহকারী বিপ্লব। ৩ নভেম্বর ২০২৫ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে রুবেলের উপস্থিতিতে হত্যা মামলার অপর আসামি কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করে বিপ্লব নির্দেশ দেন।

জবানবন্দিতে রুবেল উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে এই দুই ব্যক্তিকে ২০–২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও লিখেছেন, কামরুজ্জামান রুবেল ফয়সালের কাছ থেকে কিছু টাকা পান, কিন্তু সে টাকাটা ফেরত না দেওয়ায় ফয়সালকে কাজটি করতে হয়। বিপ্লব এই কাজটি কামরুজ্জামানকে দিয়ে ফয়সালকে দিচ্ছেন, যার লক্ষ্য ‘হাদি’কে সরিয়ে দেওয়া।

রুবেলের জবানবন্দি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, আওয়ামী লীগ নেতা নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কে হত্যার আদেশ দিয়েছে এবং কারা অর্থ সরবরাহ করেছে। এছাড়া, রুবেল যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি, যদিও সে সময় তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন।

জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুক পোস্টে রুবেলের জবানবন্দি, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সংযুক্ত লিংক দেওয়া হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে