ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

চলছে ভোটগ্রহণ, হচ্ছে সংবিধান বদলের প্রশ্নে গণভোটও

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১১:০৪:২৮
চলছে ভোটগ্রহণ, হচ্ছে সংবিধান বদলের প্রশ্নে গণভোটও

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সংস্কারপন্থি, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতাবাদী—এই তিন ধারার রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতার দখল নিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ভোটের ফলাফলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট সরকার গঠন অনিবার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণ পর্বে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে থাইল্যান্ডে মোট ৫ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে।

যদিও নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি দল অংশ নিচ্ছে, বাস্তবে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আছে তিনটি দল— পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই পার্টি এবং ফেউ থাই পার্টি। তবে জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ৫০০ আসনের সংসদে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় নিশ্চিত। সংসদ সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নাথাফং রুয়াংপানইয়াওয়ুতের নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। তবে সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রভাব কমানোর প্রস্তাবসহ দলটির সংস্কারমূলক কর্মসূচি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে বিতর্কিত। ফলে অন্য দলগুলো একজোট হয়ে পিপলস পার্টিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

উল্লেখ্য, পিপলস পার্টি মূলত মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ওই দলটি সর্বাধিক আসন পেলেও সামরিক-নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেটের বিরোধিতায় সরকার গঠন করতে পারেনি। পরে রাজতন্ত্র অবমাননা আইনের সংস্কারের আহ্বানের কারণে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

অন্যদিকে ভূমজাইথাই পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজতন্ত্রপন্থি ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থনপুষ্ট এই দলটিকে রক্ষণশীল শক্তির প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে অনুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় ছিলেন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পায়েতংতার্ন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে অনুতিনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি গত ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অনুতিনের নির্বাচনী প্রচারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তা। প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের পর সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান।

তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফেউ থাই পার্টি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরি। দলটি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত।

এদিকে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না। গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মতে, নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে