ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বেনজীর–নাফিসার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:৫০:১০
বেনজীর–নাফিসার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা নাফিসা কামালের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ থেকে বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয় করেছে পুলিশ। এসব ক্যামেরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব ক্যামেরা যথাযথভাবে কাজ না করলে পুলিশকে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া বেনজীর আহমেদের কন্যা ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর কন্যার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই কেনাকাটা হওয়ায় পুলিশের মধ্যেই সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্মার্ট টেকনোলজিস পুলিশের প্রায় সব টেন্ডার পেত। এবারের বডিওর্ন ক্যামেরা আমদানিতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে ক্যামেরাগুলো পৌঁছে গেলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশের টেলিকম বিভাগ।

বিশ্লেষকদের দাবি, বড় ধরনের দুর্নীতি এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে।

গত বছরের ৯ আগস্ট সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিনে প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়েছিল, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত সব কেনাকাটা হবে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর মাধ্যমে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউএনডিপির প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সোর্স মানির অর্থে গোপনে স্মার্ট টেকনোলজিস থেকে চীনে তৈরি বডিওর্ন ক্যামেরা কিনেছে পুলিশ বিভাগ।

স্মার্ট টেকনোলজিস ছাড়াও দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন—এই চারটি প্রতিষ্ঠান বডিওর্ন ক্যামেরা সরবরাহে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। তবে ক্যামেরা সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দাহুয়া। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়া জানতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যোগাযোগ করা হলেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লাগামহীন দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই এই পণ্য গোপনীয়ভাবে আমদানি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেও এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, নির্বাচনের সময় যদি বডিওর্ন ক্যামেরাগুলো সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে চরম সমস্যায় পড়তে হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ক্যামেরাগুলো ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। তবে এর বাইরে তিনি আর কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

জানা গেছে, একাধিক বৈঠকের পর ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য এই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই ক্যামেরার সংখ্যা ও ব্যয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ক্যামেরা কিনতে মোট কত টাকা খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।

তথ্য অনুযায়ী, ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এসব বডিওর্ন ক্যামেরায় অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কোনো ব্যক্তি ছুরি, দা, হকিস্টিকসহ অস্ত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক সংকেত দেবে।

বডিওর্ন ক্যামেরা হলো একটি বহনযোগ্য ভিডিও ক্যামেরা, যা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের পোশাক বা ইউনিফর্মে সংযুক্ত করে রাখেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে