ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন কমিশনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই, টানা পতনে শেয়ারবাজার

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৫:৪৪:১৩
বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন কমিশনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই, টানা পতনে শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা ছয় কর্মদিবস ধরে পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (১৯ আগস্ট)ও সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ অধিকাংশ সূচক কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অঙ্কে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে শেয়ারবাজার অনেকটা ধরাশায়ী হয়ে পড়েছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে শেয়ারবাজার যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই ইতিবাচক চিত্রও ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার নিয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে। বাজারের পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা কিংবা জোরালো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পড়ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারদর আগের তুলনায় কমে এসেছে। ফলে এসব শেয়ার কম দামে কিনে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর বিক্রি করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারেন।

তাদের মতে, শেয়ারবাজারের বর্তমান নেতিবাচক পরিস্থিতি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এবং একপর্যায়ে সূচক ও লেনদেনে নতুন রেকর্ডও তৈরি হতে পারে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এভাবে শেয়ারবাজার চলতে পারে না। তাই বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে ভালো শেয়ার বাছাই করে বিনিয়োগ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫১ দশমিক ১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৯৮টির কমেছে এবং ৬১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার মোট ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

আজ সিএসইতে মোট ২০৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১১৭টির কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৯৪ দশমিক ১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন সিএএসপিআই সূচক ১১০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে