ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বিদেশ সফরে অতিরিক্ত সচিবদের জন্য নতুন বিধান জারি

২০২৬ মে ০১ ০৭:৪৪:৩০
বিদেশ সফরে অতিরিক্ত সচিবদের জন্য নতুন বিধান জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করেছে সরকার, যেখানে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভ্রমণব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সচিব এবং একই মর্যাদার কর্মকর্তারা এখন থেকে বিদেশে আকাশপথে যাতায়াত করবেন সুলভ শ্রেণিতে। আগে তারা বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণিতে ভ্রমণের সুযোগ পেতেন।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ বিভাগের অফিস স্মারক ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কোনো নতুন ব্যয়সাশ্রয়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

সরকারি ভ্রমণের সুবিধা নির্ধারণে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনা এখনও কার্যকর রয়েছে। ওই আদেশে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সব স্তরের সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ সফরের ভাতা ও সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় ভ্রমণকালীন খরচ—যেমন হোটেল, যাতায়াত ও খাবার—মার্কিন ডলারে প্রদান করা হয়। ভাতা নির্ধারণে ‘বিশেষ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই স্তরের পাশাপাশি দেশভিত্তিক তিনটি গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রুপ-১-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৩০টি দেশ, যার মধ্যে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও ওশেনিয়ার বেশিরভাগ দেশ রয়েছে।

গ্রুপ-২-এ রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসরসহ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।

অন্যদিকে গ্রুপ-৩-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নেপাল, ভিয়েতনাম, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০০ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন, আর সমমর্যাদার পদ বিবেচনায় এই সংখ্যা ৮০০-এর বেশি। বিদেশ সফরের সময় তারা বৈদেশিক মুদ্রায় দৈনিক ভাতা পান।

উচ্চ ব্যয়বহুল দেশে এ ভাতা সর্বোচ্চ ৪০০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত, মাঝারি ব্যয়ের দেশে ৩০০ ডলার এবং কম ব্যয়ের দেশে ২৫০ ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে বিদেশে অবস্থানকালীন দৈনন্দিন খরচ নির্বাহ করা হয়।

এত দিন পর্যন্ত বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে বিজনেস ক্লাস বা সমমানের সুবিধা দেওয়া হতো এবং উন্নতমানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও থাকত। ভিসা ফি, বিমা, বিমানবন্দর করসহ অন্যান্য খরচ সরকার বহন করত এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রটোকল সুবিধাও দেওয়া হতো।

এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে আরেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতিসহ মন্ত্রীদের প্রথম শ্রেণির ভ্রমণ সুবিধা বাতিল করে তা বিজনেস বা সমমানের শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে