ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আয় কমলেও ব্যয় সংকোচন করে মুনাফায় বিএসইসি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:১৭:০২
আয় কমলেও ব্যয় সংকোচন করে মুনাফায় বিএসইসি

নিউজ ডেস্ক: জরিমানা, ফি এবং লাইসেন্সিং থেকে আয় কমে যাওয়ার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সামগ্রিক আয় ১৪ শতাংশ কমে ১০৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আয় কমলেও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাদের নিট উদ্বৃত্ত ১২ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিএসইসির সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জরিমানা ও ফি খাত থেকে কমিশনের আয় গত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য উৎস থেকে আয় ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, আয় কমার বিপরীতে বিএসইসি তাদের মোট ব্যয় ২১ শতাংশ কমিয়ে ৭৫ কোটি ৮২ লাখ টাকায় নামিয়ে এনেছে। মূলত বেতন-ভাতা এবং প্রশাসনিক খাতে খরচ কমানোর মাধ্যমেই এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর ২০২৫ অর্থবছর শেষে কমিশনের নিট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

শেয়ারবাজারে মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বিদায়ী অর্থবছরে বিএসইসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন যন্ত্র বা ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে ৬ হাজার ১৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ৩০৩ কোটি টাকার রাইটস ইস্যু, ১১টি কোম্পানিকে প্রাইভেট ডেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং ১৫টি কোম্পানিকে সাধারণ, বোনাস ও প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত অর্থবছরে বিএসইসি বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে পাওয়া ২২৬টি অভিযোগের মধ্যে ২২২টিই নিষ্পত্তি করেছে কমিশন। অনিয়ম শনাক্ত করতে তারা ৯২টি তদন্ত এবং ৬১০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর ফলে ৯৮৭টি এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ হাজার ৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিএসইসির ৫২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ারবাজারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিএসইসি বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে বিতর্কিত সার্কিট ব্রেকার পদ্ধতি বাতিল এবং অধিকাংশ কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া অন্যতম। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিশ্বাস করে, চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বাজারচালিত মূল্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে