ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

তালিকাভুক্ত কোম্পানির ডিভিডেন্ড নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৬ জুন ০৯ ২২:২৮:৩০
তালিকাভুক্ত কোম্পানির ডিভিডেন্ড নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অধিক হারে ডিভিডেন্ড বিতরণে উৎসাহিত করতে নতুন করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড বিতরণ করলে ঘাটতি অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হতে পারে।

একই সঙ্গে ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় বেশি পরিমাণ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হলে কিংবা শুধুমাত্র স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর আইনের সংশোধনীতে এ বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। তবে ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ নতুন কর ব্যবস্থার বাইরে রাখা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড বিতরণের এই নীতি কার্যকর হলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ নীতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা সংরক্ষণ করে তুলনামূলক কম ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারবান্ধব অবস্থান নিতে বাধ্য হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার প্রবণতাও কমে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি যদি কর-পরবর্তী নিট আয়ের ৩০ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড বিতরণ করে, তাহলে নির্ধারিত ৩০ শতাংশ সীমা এবং প্রকৃত বিতরণকৃত লভ্যাংশের মধ্যে যে ঘাটতি থাকবে, সেই অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সময়ে কর পরিশোধ না করলে উপকর কমিশনার নোটিশ জারি করে শুনানির সুযোগ দেওয়ার পর কর নির্ধারণ করতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা যদি ১০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে অন্তত ৩০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড বিতরণ করতে হবে। কিন্তু কোম্পানিটি যদি মাত্র ২০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড দেয়, তাহলে অবশিষ্ট ১০ কোটি টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি আগের বছরের কর-পরিশোধিত নিট আয়ের ৭০ শতাংশের বেশি অর্থ সংরক্ষিত আয়, তহবিল, সঞ্চিতি বা উদ্বৃত্ত হিসেবে স্থানান্তর করলে ওই স্থানান্তরিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়। অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থায় মুনাফা সংরক্ষণের পরিমাণ করের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন প্রস্তাবে সেই কাঠামো পরিবর্তন করে ডিভিডেন্ড বিতরণের হারকে কর আরোপের মূল ভিত্তি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে স্টক ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির ক্ষেত্রে ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় বেশি স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হলে অথবা শুধুমাত্র স্টক ডিভিডেন্ড বিতরণ করা হলে স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে এ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো কোম্পানিকে নির্দিষ্ট হারে ডিভিডেন্ড দিতে বাধ্য করা আদর্শ ব্যবস্থা নয়। সাধারণত একটি কোম্পানি কত ডিভিডেন্ড দেবে, তা পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তের বিষয়। বিশেষ করে দ্রুত সম্প্রসারণশীল এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো প্রায়ই মুনাফার বড় অংশ পুনর্বিনিয়োগ করে থাকে, ফলে তারা তুলনামূলক কম ডিভিডেন্ড দেয়।

তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বাস্তবতা ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী এখনও ডিভিডেন্ডকে বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে কোনো কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে কম ডিভিডেন্ড দিলে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত রিটার্ন থেকে বঞ্চিত হন এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো মুনাফা ধরে রাখলেও সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে মূল্যায়ন করা কঠিন। তাই মুনাফার একটি অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে বিতরণ করা হলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারেন এবং তাদের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক ডিভিডেন্ড নীতির পক্ষে না হলেও দেশের বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কম ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাবকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে