ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

কুরবানি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার ব্যাখ্যা

২০২৬ মে ২৭ ১৬:০২:৫৬
কুরবানি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেকেই নিজের পাশাপাশি বাবা-মা, সন্তান বা মৃত আত্মীয়ের নামেও কুরবানি দেন। তবে ইসলামি শরিয়তে কুরবানি কার পক্ষ থেকে হবে এবং কতজন অংশ নিতে পারবেন—এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট বিধান।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার মতো পশু শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা যায়। এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না।

অন্যদিকে গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হতে পারেন। প্রত্যেক অংশীদারের নিয়ত আলাদা হলেও একটি পশুর মাধ্যমেই সবার কুরবানি আদায় হয়।

ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, সাতজন অংশীদার বলতে সাতটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির অংশ বোঝানো হয়, সাতটি পরিবারের নয়। অংশীদারের সংখ্যা সাতের কম হতে পারে, তবে বেশি হওয়া যাবে না।

কুরবানির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো আল্লাহর নামে পশু জবাই করা এবং অংশীদারদের নিয়ত স্পষ্ট থাকা।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কুরবানি ওয়াজিব। সাধারণভাবে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে কুরবানি আদায় করতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, আগে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তাই এখন রুপার নেসাব অনুযায়ী হিসাব করাকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন অনেক ইসলামি গবেষক।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কেউ চাইলে নিজের ওয়াজিব কুরবানি আদায়ের পর বাবা-মা, মৃত আত্মীয় বা প্রিয়জনের নামেও কুরবানি দিতে পারেন। মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি বৈধ এবং এর মাধ্যমে সওয়াবের আশা করা হয়।

আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি দিলে সেই মাংস গরিবদের মধ্যে বেশি বিতরণ করা উত্তম। একইভাবে নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকেও কুরবানি দেওয়া জায়েজ।

প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ কুরবানির পশু জবাই করা হয়। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব, তারা তা আদায় না করলে গুনাহগার হবেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে