ঢাকা, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে সরকারের ব্যাখ্যা

২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১০:৫০:০২
কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে সরকারের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গুগলে কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা বা বেআইনি মানহানিকর চরিত্রহননের বাইরে দেশের কোনো পত্রিকার সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, রিলস, অনলাইন আর্টিকেল কিংবা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট সরানোর জন্য সরকার কখনো কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি। এসব ধরনের অপসারণসংক্রান্ত অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়।

সরকার জানায়, বর্তমান সরকার কোনো বট বাহিনী বা সমন্বিত সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করে না। পাশাপাশি বিটিআরসি বা এনটিএমসি—কোনো সংস্থাই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না; তাই যেকোনো অনুরোধ সংশ্লিষ্ট টেক বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেই পাঠাতে হয়।

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ থেকে কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ গেছে মোট ২৭৯টি। যা ২০২২ সালের জুন-ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাঠানো ৮৬৭টি অনুরোধের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। তার আগের ছয় মাস ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে অনুরোধ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩টি। এসব সংখ্যা আওয়ামী লীগ আমলের সর্বনিম্ন রিকোয়েস্ট ৫৯১টিরও অর্ধেকের কম বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গুগল রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ অনুরোধই ‘Not enough information’ ক্যাটাগরির অধীনে পড়েছে, যা প্রমাণ করে এসব অনুরোধ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।

সরকার জানায়, জানুয়ারি–জুন ২০২৫ সময়কালে বাংলাদেশ ভেতর ও বাইরে থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত হারে মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের পর সাইবার স্পেসে সরকারের বিরুদ্ধে মিসইনফরমেশন ছড়িয়ে সহিংসতার উসকানিও দেওয়া হয়। এসব পরিস্থিতিতে সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার দায়িত্বশীলভাবে কিছু কনটেন্ট রিপোর্ট করেছে।

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে সরকারের অভিযোগ—গুগলের আপডেটেড রিপোর্ট প্রকাশের আগে সরকারের কাছে কোনো ব্যাখ্যা বা মতামত চাওয়া হয়নি। খণ্ডিত ও যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ করে গণমাধ্যম দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করেনি বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে একাধিক বড় আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক হামলা, মব লিঞ্চিংসহ নানা অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল। এসব পরিস্থিতিতে সোশ্যাল ও ডিজিটাল স্পেসে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশ বাক্‌স্বাধীনতা এবং ইন্টারনেট স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে সরকার দাবি করে। ফ্রিডম হাউসের Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের স্কোর ৪০ থেকে বাংলাদেশ এ বছর ৪৫ পেয়েছে—যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রগতি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দমনমূলক সরকার অপসারণ এবং নতুন সরকারের সাইবার নীতিতে ইতিবাচক সংস্কারের ফলেই এই উন্নতি হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে