Print
প্রচ্ছদ » বিনোদন

‘বড় ছেলে’র পেছনের যত গল্প, অজানা যত কথা!

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭:

মিজানুর রহমান আরিয়ান। দীর্ঘদিন ধরেই নাটক বানান। টেলিফিল্ম বানান। মূলত রোমান্টিক পরিচালক হিসেবেই চেনে সবাই। সেই আরিয়ান একটা টেলিফিল্ম বানালেন। ঈদের চারদিন পর প্রচার হলো। প্রচার হতেই চারিদিকে সুনামের সুনামি। ফেসবুক, ইউটিউব, অফিস, বন্ধুদের আড্ডা, চায়ের দোকান সব জায়গায় দখল করে নিল ‘বড় ছেলে’ ও তার পরিচালক আরিয়ান।

‘বড় ছেলে’ জন্মের গল্প জানতে চাইলে আরিয়ান বলেন, ‘আমার দাদা ছিলেন বড় ছেলে, আমার বাবা বড় ছেলে, আমিও পরিবারের বড় ছেলে। তবে আমাকে সংসারের টানাপোড়নের সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু আমার টিচারকে দেখেছি পারিবারিক সমস্যার কথা বলে মাস শেষ হওয়ার আগে বেতন নিতে। বন্ধুদের দেখেছি সংসারের যাবতীয় চিন্তা মাথায় নিয়ে চলতে। পরিচিতদের দেখেছি সংসার টানছে বলে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে পারছে না। তার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অনেকগুলো ঘটনাকে এক ফ্রেমে সাজানো। নির্দিষ্ট একজনের না বরং বিভিন্নজনের বিভিন্ন ঘটনা একত্রিত করেই দাঁড় করানো এই বড়ছেলে।’

আরিয়ান জানান, এবার তার পরিকল্পনা ছিল দুইটা নাটক বানাবেন। যেন একটা থেকে আরেকটা আলাদা হয়। বানালেন ‘ব্যাচ টুয়েন্টি সেভেন’। এটা অভিজাত শ্রেণির গল্প। ফলে আরেকটা নাটক বানাতে চাইলেন, যেটা হবে মধ্যবিত্তের গল্পে। সেই ভাবনা থেকেই বড় ছেলের জন্ম।

বড় ছেলের গল্প লেখা হলো। গল্পের সারাংশ পাঠালেন প্রডিউসারকে। প্রডিউসার সারাংশ পড়ে কান্না করে দিলেন। ইমোশনাল হয়ে হয়ে বললেন, ‘আরিয়ান এটা কী লিখছো?’

প্রডিউসারের আবেগতাড়িত হওয়া দেখে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় পরিচালকের। নাটকের টিম স্ক্রিপ্ট পড়ে প্রশংসা করে। আগ্রহ বাড়তে থাকে পরিচালকের। অপূর্বকে পড়ানো হলো স্ক্রিপ্ট। বড় ছেলে হিসেবে নির্বাচন করা হলো অপূর্বকে। কেননা অপূর্বের ক্যারিয়ার সেরা বেশকিছু কাজ আরিয়ানের সঙ্গে এবং আরিয়ানের ক্যারিয়ার সেরা বেশকিছু কাজ অপূর্বের সঙ্গে। অপূর্ব পড়ে বললেন, ‘আরিয়ান, দিস ইজ এ বেস্ট স্ক্রিপ্ট।’ এখন পর্যন্ত লেখা তোমার সেরা স্ক্রিপ্ট। ‘একজন সিনিয়র আর্টিস্ট যখন এভাবে বলে তখন কাজের গতি বেড়ে যায়।’ বলছিলেন মিজানুর রহমান আরিয়ান।

আরিয়ান জানালেন, শুটিংয়ে দেখা দিল মজার সব ঘটনা। একটা দৃশ্যের শুটিং শেষ হলে পরিচালককে ‘কাট’ বলতে হয়। আরিয়ান কাট বলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তার আগেই উপস্থিত দর্শক হাততালি দিচ্ছিল। এবং আরিয়ান পেছনে তাকিয়ে দেখেন তার পেছনে যারা ছিল সবাই কান্না করছে।

শেষ দৃশ্যের শুট করে মেহজাবিন পাঁচ মিনিট গাড়িতে বসে কান্না করছিল। তাকে থামানো যাচ্ছিল না। এই দৃশ্যের শুটিং শেষে পুরো ইউনিটের কেউ স্বাভাবিক হতে পারছে না। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে তবেই আরেক দৃশ্যের শুটিং শুরু করতে হয়েছে বলে জানান আরিয়ান। এমন কখনো হতে দেখেননি তিনি। চ্যানেল আই অনলাইনকে আরিয়ান বলেন, ‘ফাইনাল এডিটিংয়ের সময় প্যানেল থেকে সবাইকে বের করে দিতে হয়েছে। কারণ, পরিচালক প্যানেলে বসে কান্না করছে, বিষয়টা কেমন হয়ে যায় না?’

চাপা স্বভাবের বড় ছেলে হিসেবে অপূর্বের অভিনয় ‘অপূর্ব’ হয়েছে। সবাই বেশ প্রশংসা করছে। এর আগে উৎসর্গ নামে একটা নাটক বানিয়েছিলেন আরিয়ান। সেটায় অপূর্ব গ্রামের একটি চরিত্রে অভিনয় করে। সেই নাটকটা ‘বড় ছেলের’ মতো আলোচিত না হলেও অনেক ভালো একটা নাটক ছিল। যেখানে অপূর্বের অভিনয় ছিল অনন্য। সুতরাং নাটকের গল্প লেখার সময়েই অপূর্বের কথা মাথায় এসেছিল বলে জানান পরিচালক।

শেয়ারনিউজ/