Print
প্রচ্ছদ » খেলাধুলা





ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭:

সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে সাজঘরে ফিরে আসছেন ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত ব্যাটসম্যান। আউট হয়ে নয়, প্রচণ্ড গরমে কাবু হয়ে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে এই দৃশ্য গত কয়েক আসরে নিয়মিত। সাবেক ও বর্তমান অনেক খেলোয়াড় আকুতিই জানিয়েছিলেন ওই সময় থেকে এ টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার। অবশেষে খেলোয়াড়দের কথা বিবেচনা করে প্রচণ্ড গরম থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার এই আসর। আগামী বছরের জানুয়ারিতেই প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে চান বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটনের (সিসিডিএম) সদ্য দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান কাজী এনাম আহমেদ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে মঙ্গলবার সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঙ্গলবার বললেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ গত কয়েক বছরে দেখেছি বৃষ্টির সময়, রোজার সময় হয়। প্রচণ্ড গরমও থাকে। অনেক ক্লাবই আমাদেরকে এটা নিয়ে বলেছে। আমরাও ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। জানুয়ারি ২ বা ৩ তারিখ আমরা ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে বসব, প্রিমিয়ার লিগ আবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ফিরিয়ে আনতে। এবার জানুয়ারির ২০ তারিখ আমরা শুরুর চেষ্টা করব। তার ৮-১০ দিন আগে “প্লেয়ার্স বাই চয়েজ” ড্রাফট যাতে করা যায়, সেটির জন্য ইতিমধ্যেই ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলছি।’

শুধু তাই নয় প্রিমিয়ার লিগকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেন কাজী এনাম। তবে গতবারের মতো এবারও থাকছে “প্লেয়ার্স বাই চয়েজ” পদ্ধতি। ক্রিকেটারদের আপত্তি থাকলেও ক্লাবগুলোর চাওয়াতেই এটা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি, ‘এবার আমরা “প্লেয়ার্স বাই চয়েজ” পদ্ধতিতে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্লাব চারজন করে ক্রিকেটার ধরে রাখতে (রিটেইন করতে) পারবে। ক্লাবগুলোর কথা হচ্ছে, খেলাটা আস্তে আস্তে টেকসই (সাসটেইনেবল) থাকছে না। অনেক চাহিদা এসে যাচ্ছে, যেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না টিকে থাকার ক্ষেত্রে। যে কারণে “প্লেয়ার্স বাই চয়েজ” আসছে।’

তবে ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথাও বিবেচনা করছেন বলে জানান সিসিডিএম চেয়ারম্যান, ‘ক্রিকেটারদের ব্যাপারটিও আমাদের ভাবনায় আছে। বিশেষ করে এই লিগ যেহেতু অনেক ক্রিকেটারের আয়ের মূল উৎস। সেটিও আমরা ঠিক রাখার চেষ্টা করব।’

এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচকদের গ্রেডিং অনুযায়ী পারিশ্রমিক ঠিক করতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান এনাম। গত মৌসুমে কে কেমন টাকা পেয়েছে কেমন পারফরম্যান্স করেছে সেসব বিবেচনা করেই করা গ্রেডিং করা হবে। ক্রিকেটারদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেই জানান চেয়ারম্যান। তবে এবারের লিগে খেলতে পারবেন না জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। কারণ লিগ হবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চে। সে সময় জাতীয় দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থাকায় ব্যস্ত থাকবেন তারা।

এছাড়াও এবারের আসরকে টিভি সম্প্রচার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। টুর্নামেন্টের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে কমপক্ষে সুপার লিগের ম্যাচগুলোকে সম্প্রচার করতে চান বলেই জানান এনাম, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাঠে দর্শক ফিরিয়ে আনা। আমরা টি-টোয়েন্টি লিগটি যদি করতে পারি, তাহল হয়ত দর্শক আসবে। তবে মূল লক্ষ্য অবশ্যই থাকবে প্রিমিয়ার লিগ, যেটি ওয়ানডে সংস্করণে হয়। সুপার লিগে যদি মাঠে দর্শক আসে, যদি টিভিতে সম্প্রচার করতে পারি, তাহলে সবাই উৎসাহিত হতে। লিগ জনপ্রিয় হলেই কিন্তু মাঠে দর্শক আসা বাড়বে। মার্কেটিং করা বা স্পন্সর পাওয়া সুবিধে হবে। জৌলুস ফিরিয়ে আনতে পারলে শুধু লিগ নয়, ক্লাবগুলোও স্পন্সর পাবে।’

এদিকে ওয়ানডে লিগের পাশাপাশি একটি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজনের পরকিল্পনাও করছে সিসিডিএম। আগের আসরের সেরা ৮টি দল নিয়ে টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টটি করতে চায় তারা। যদিও এর আগে শোনা গিয়েছিল ৬টি দল নিয়ে হবে। তবে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান এনাম, ‘আমাদের চিন্তা ভাবনা আছে, প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে যে দলগুলো উঠবে সেই ৬ দল, কিংবা লিগের শীর্ষ ৮ দলকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি লিগ করব। ৮ দলের ভাবনাটা এসেছে মূলত প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে। দেখা যায় সুপার লিগের ৬ দল আর রেলিগেশনে থাকা ৩ দল খেলায় লড়াই করছে। সাত-আটে থাকা দলের কিছু নেই। ৮ দলকে নিয়ে দলে সাত-আটে থাকার জন্যও লড়াই হবে।’

টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেই আয়োজন করতে চায় সিসিডিএম। এক সপ্তাহ সময় পেলেই সম্ভব হবে বলেও জানায় এনাম, ‘আমাদের চাওয়া মিরপুর স্টেডিয়ামেই এই লিগ করার। এক সপ্তাহ সময় পেলেই সম্ভব। নক আউট বা দুই গ্রুপে ভাগ করে হবে। সেটি টিভিতে সম্প্রচার হবে। প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর রোমাঞ্চও বাড়বে।’





শেয়ারনিউজ/এআর