Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি ২০১৭:

ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রথম প্রান্তিকে মুনাফার উল্লম্ফনেও সর্বনিম্ন দরে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি কাশেম ড্রাইসেলের শেয়ার।৩০ জুন ২০১৭ হিসাব বছরের ঘোষিত ডিভিডেন্ডের থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর টানা দর পতনে বর্তমানে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ের সম্প্রসারণে মুনাফার উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে কাশেম ড্রাইসেল। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত অর্থ বছরে মুনাফার উপর ভিত্তি করেই আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

জানা যায়, সোমবার বছরের প্রথম কার্যদিবসে কাশেম ড্রাইসেলের সমাপনী বাজার দর ছিল ৭৮.৮০ টাকা। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার ৭৭.৮০ টাকা থেকে ৭৯.৭০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। যদিও গত ৫২ সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন বাজার দর ছিল ৭৭ টাকা। ২৮ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার সর্বনিম্ন দরে স্থিতি পায়। যদিও বছরে প্রথম কার্যদিবসে ২.৮৪ শতাংশ বা ২.২ টাকা বেড়ে সর্বশেষ ৭৯.৭০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। কারণ, এদিন কোম্পানিটির ওপেনিং প্রাইজ ছিল ৭৭.৫০ টাকা।

এদিকে, প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, এসময় শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ০.৮৫ টাকা। যেখানে আগের বছর্ একই সময় শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ০.৭৫ টাকা।

৩০ জুন ২০১৭ এর বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম কোম্পানি ভবিষ্যৎ ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। এবং মুনাফা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের কারণ তুলে ধরেন। শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমের বিনিয়োগকারীদের জন্য তার মূল বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ১৯৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪১ হাজার ৭৮০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৮৫ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৭ টাকা।৩০ জুন ২০১৭ শেষে কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৮ টাকা, যদিও আগের বছরে মুনাফা হয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৮ টাকা।

যেসকল কারণে মুনাফা বেড়েছে এবং আরো বাড়বে-

১. আমাদের নিরলস প্রচেষ্ঠা এবং দক্ষ বিপনন পদ্ধতির কারণে আমরা ইউএম-৪ ব্যাটারির বাজার প্রতিষ্ঠত করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে আমরা নিজস্ব কারখানায় ইউএম-৪ ব্যাটারি উৎপাদন করছি, যা আমাদের মুনাফা বৃদ্ধির সহায়তা করছে।

২, পন্য সম্ভারে বিভিন্ন প্রকারের এল.ই.ডি ফ্লাশ লাইট অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, যা ব্যাটারি দ্বারা পরিচালিত। আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের কারখানায় ফ্লাশ লাইট উৎপাদন শুরু করেছি, যা ভবিষ্যতে উচ্চতর মুনাফা অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশা করছি।

৩, ইউএম-৩ ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে, যা আমাদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক মুনাফা সহায়তা করবে।

৪. মেটার প্রজেক্ট (মেটাল ইউনিট-৩ ) এ ক্যান উৎপাদনের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে, যা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে সহায়তা করবে।

৫. গ্যাস লাইট বিক্রয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

৬. কাসেম ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের উৎপাদন সামগ্রী বাজারজাত করণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যা আমাদের বিক্রয় বৃদ্ধির অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

৭. ইউএম-৩ ভিনাইল জ্যাকেট ব্যাটারি প্রস্তুতের জন্য নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। যা আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে ও মুনাফা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

৮. ইউ এম-৩, ইউএম-৪ চালিত ফ্লাশ লাইট যেমন ইকোনো সুপার, এবিএস ২ডি, ৩ডি সংযোজন, এরাসল ক্যান, বডি স্প্রে, সেভিং ফোম, এয়ার ফ্রেশনার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদনে যন্ত্রপাতি ও ফিলিং লাইন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া কোম্পানির সম্প্রসারণে ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নতুন পণ্য সংযোজন করা হয়েছে যা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কার্যকর করা হবে।

১. ফুড ও বেভারেজ ক্যান প্রস্তুতকরণ ইউনিট প্রতিস্থাপন।

২. ইজি ওপেনার ফুড ও বেভারেজ ক্যান প্রস্তুতকরণ ইউনিট প্রতিস্থাপন

৩. ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ

এছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে-

১. বহুতল বিশিষ্ঠ কর্পোরেট হেড অফিস ও পণ্য বিতরন কার্যালয় নির্মাণ

২. স্বয়ং সম্পূর্ণ হাসপাতাল নির্মাণ

৩. ফ্লেক্সিবল প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইউনিট স্থাপন

৪. এ্যালোমিনিয়াম ক্যান প্রস্তুতকারী যন্ত্রপাতি স্থাপন।

শেয়ারনিউজ/