Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ




এইচ কে জনি:

দিনে দিনে দেশের পুঁজিবাজারের আয়তন বাড়লেও দেশের অর্থনীতিতে তেমন ভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) বাজার মূলধন যেখানে দেশটির জিডিপির প্রায় ৮৬.৩৪ শতাংশ, সেখানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ২০ শতাংশের কিছু ওপরে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ১৫ শতাংশের নিচে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গেও এ দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের আয়তনগত ফারাক বিশাল। এছাড়া গত কয়েক বছরে জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারেনি পুঁজিবাজার। বরং গত ৫ বছরের জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের মূলধন কমেছে। শিল্পদ্যোক্তারা অর্থায়নের উৎস হিসেবে ব্যাংক ব্যবস্থাকেই আস্থার জায়গা মনে করছে। পুঁজিবাজারের অবস্থান এখানে নগণ্য। বাজার বিশেষজ্ঞদের আইনগত বিভিন্ন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে আসতে চান না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


তাদের মতে, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় বছরে পর বছর ধরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এ দেশে ব্যবসা করলেও তাদের বাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকারের বিবেচনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বর্তমানের তিনগুণ হওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করছেন। তবে এটিকেই বাজার সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা মনে করে ভালো কোম্পানিকে এখানে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন তারা।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলোর মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত দাঁড়ায় ২১.৬২ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।


পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্টক মার্কেট দুটির অবস্থার নগণ্য। ডিএসই’র তথ্য মতে,থাইল্যান্ড (এসইটি) মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ১১০.৩৩ শতাংশ, ইন্ডিয়া (বিএসই) ৮৬.৩৪ শতাংশ, পাকিস্তান (কেএসই) ২৮.২৫ শতাংশ, শ্রীলংকা (সিএসই) ২৩.৬৮ শতাংশ, নেপাল (এনইপিএসই) ৭০.০১ শতাংশ এবং মালোয়শিয়া (বুরসা মালোয়শিয়া) ১৪২.২৪।


ডিএসই মনে করছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান বাড়াতে হলে এ বাজারকে আরও গণমুখী করতে হবে। বাজারের গভীরতা আরও বাড়াতে হবে। বাজারের গভীরতা বাড়াতে এখানে ভাল কোম্পানি তালিকাভূক্ত করতে হবে। আর এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে হবে। প্রয়োজনে আইন-কানুন বা বিধি-বিধান কিছুটা পরিবর্তন করে হলেও তাদেরকে এখানে আনতে হবে। এসব কোম্পানির পেইড আপন ক্যাপিটাল অনেক। তাই তারা বাজারে আসলে এমনিতেই বাজারের সাইজ বড় হবে। এরফলে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক লাভবান হবেন।


এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, গত ৫-৬ বছরে অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, আমাদের পুঁজিবাজার সেভাবে এগোতে পারেনি। আমরা ভালো ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে সক্ষম হইনি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়াকে অহেতুক জটিলতা মনে করছে কোম্পানিগুলো। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কর্পোরেট গভর্নেন্স রয়েছে। তাদের এ বাজারে আনতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারা আসছে না। এক্ষেত্রে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত। ভবিষ্যতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে। তিনি বলেন, জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের অবস্থান ক্ষুদ্র। এটিকেই সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করে এগিয়ে যেতে হবে।




শেয়ারনিউজ/ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭