Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

প্রতিনিয়তই নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে





বিশেষ প্রতিবেদক:

অতীতের সব ধকল কাটিয়ে ওঠছে দেশের পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের ধস পরবর্তী টানা মন্দায় বিনিয়োগকারীরা যখন বাজারের ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং বাজারের সূচক ও লেনদেন তলানীতে এসে ঠেকেছিল তখনই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়ে ওঠেন সরকারসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারনী মহল। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমে পড়েন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্তা-ব্যক্তিদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বলেই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেই সুবাদে প্রতিদিনই বাড়ছে সূচক ও গড় লেনদেনের পরিমাণ। এতে প্রায় সবশ্রেনীর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে প্রবেশ করছেন। তবে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেনীর বিনিয়োগকারী স্বল্পমূলধনী ও লোকসানি শেয়ার নিয়ে কারসাজি করছে। পরিণতিতে এসব কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরুপ। তাই বাজারের উর্ধ্বমূখী প্রবণতায় যেমনি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে, ঠিক তেমনি লোকসানি কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিতে শঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


তবে আশার কথা হচ্ছে, বাজারে প্রায় প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। যার কারণে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে নতুন করে সাড়ে ১১ হাজার বিনিয়োগকারী বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অক্টোবর মাসে বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৮টিতে। যা আগের মাসের অর্থ্যাৎ সেপ্টেম্বরের শেষে ছিল ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৩টিতে। অর্থ্যাৎ এক মাসে বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৬৪৫টি।


তথ্যানুযায়ী, ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৩৮টির বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে পুরুষ অ্যাকাউন্টের সংখ্যা রয়েছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৯টিতে। যা সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ছিল ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৯টিতে। অর্থ্যাৎ এ সময়ে পুরুষ বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বেড়েছে ৯ হাজার ৭০টি।


অক্টোবরে নারী অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৫৭টি বেড়ে দাড়িয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৩টিতে। সেপ্টেম্বরে নারী অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৪৬টি।আর শেষ এক মাসে কোম্পানি অ্যাকাউন্ট ১১৭টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৯৭টিতে। সেপ্টেম্বরে কোম্পানি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৪৭৯টিতে।


এ সময়ে দেশে অবস্থানকারীরা ১০ হাজার ৬২৭টি বিও অ্যাকাউন্ট করেছে। যার কারণে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৫ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩টিতে। সেপ্টেম্বর মাসে এ সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ২০ হাজার ৫৪৬টিতে।আর প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ৯০০টি বিও অ্যাকাউন্ট করেছে শেষ এক মাসে। অক্টোবর প্রবাসীদের বিও দাড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬৯টিতে। যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯টিতে।


বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে যে সংস্কার করা হয়েছে এর মাধ্যমে বাজারের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। আর সেটাকে কেন্দ্র করে আগামি দিনগুলোতে বাজারের আরও উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়াও সামনে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ডকে কেন্দ্র করে এসব খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের উৎফুল্ল করে তুলছে।


তারা আরও বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাজার ভালো অবস্থায় রয়েছে। ক্ষুদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু লোকসানি ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বাড়ায় উৎকন্ঠাও প্রকাশ করেন তারা।


তাদের মতে, কোন কারণ ছাড়াই লোকসানি কিংবা স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ার দর কয়েদিনের ব্যবধানে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া পুজিবাজারের জন্য মোটেও সুখকর নয়। বরং হুমকি স্বরুপ। এতে লোকসানের সম্ভাবনা বাড়ে। তারা বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। পুঁজিবাজারের চলমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। বাজারের গতি বিধির বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের জানার মধ্যে থাকতে হবে। আর এই বিষয়গুলো সাধারণ বিনিয়োগকারিদের নখদর্পনে রাখতে তাদের বাজার সম্পর্কে পরিপূর্ন ধারনা প্রদান করতে হবে। আর এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতের কোম্পানি, যারা সিএসআরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে; তাদের এগিয়ে আসতে হবে।




শেয়ারনিউজ/ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০১৭