Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

এনএভি বেশি দেখাতে কোম্পানিগুলোর নানা ফন্দি!




বিশেষ প্রতিবেদক:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একাধিক কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করতে অবৈধ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। ইজারা করা ফ্যাক্টরি, যানবাহন এমনকি অফিস ইক্যুইপমেন্ট, ফার্নিচার অ্যান্ড ফিটিংস পর্যন্ত সম্পদ মূল্যায়নের আওতায় ধরা হচ্ছে। এই সম্পদ পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক কোম্পানি অবৈধ পন্থা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ইস্যু মূল্যের চেয়ে এনএভি বেশি দেখানোর কৌশল।


যদি কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভি ৩৫ টাকা হয়, সে কোম্পানি যদি ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ শেয়ারপ্রতি ৪০ টাকা ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করে তাহলে এনএভির চেয়ে আইপিওর ইস্যু মূল্য বেশি নির্ধারিত হয়। যা বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষের সৃষ্টি করে। এই অসন্তোষের সৃষ্টি যেন না হয় এ কারণেই কোম্পানিগুলো এনএভির নিচে আইপিওর ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৫ টাকা নির্ধারিত হলে সে কোম্পানির প্রিমিয়াম ছাড়া ফেস ভ্যালু ১০ টাকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন নিচ্ছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের দেখানো হচ্ছে যে, কোম্পানিকে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা দেয়া হচ্ছে অথচ কোম্পানির সম্পদ রয়েছে শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা। অর্থাৎ এই কোম্পানির শেয়ার কিনলে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হচ্ছেন। এদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে অনেক কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এনএভির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রধান ইস্যু হচ্ছে রি-ভ্যালুয়েশন বা পুনঃমূল্যায়ন। কোম্পানির সম্পদের পূর্বের মূল্য ও বর্তমান মূল্য বের করার জন্য পুনঃমূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।


জানা যায়, কোম্পানিগুলো ইজারা করা সম্পত্তি, পুরাতন মেশিনারিজ ছাড়া অফিসের মালামাল পর্যন্ত সম্পদের পুনঃমূল্যায়ন করছে। অথচ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশিত সম্পদ পুনঃমূল্যায়নের গাইডলাইনে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কোন কোন সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না এ সংক্রান্ত বিষয়সহ বিএসইসির গাইডলাইনে ৩ ভাগে মোট ৩৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


এতে বলা হয়েছে, ইজারাকৃত জমি ও ভবন যেগুলোর স্থানান্তরের অধিকার নেই এগুলো পুনঃমূল্যায়িত হবে না। এক্ষেত্রে মোট সম্পদ ইজারার সময় নিম্নে ৯৯ বছর এবং অবশিষ্ট ইজারার সময় নিম্নে ১০ বছর পর্যন্ত করা যাবে। সেকেন্ড হ্যান্ড কন্ডিশনের প্লান্ট এবং মেশিনারিজ, ব্র্যান্ড নিউ কন্ডিশন কিন্তু আয়ুষ্কাল অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে এমন সম্পদ পুনঃমূল্যায়িত হবে না। টিন সেড বিল্ডিং এবং তৈরিকৃত বিল্ডিং যেগুলোর আয়ুষ্কাল অর্ধেক শেষ হয়েছে এগুলোর পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না। যানবাহন, ফার্নিচার অ্যান্ড ফিটিংস, অফিস ইক্যুইপমেন্ট, লুজ টুলস এবং অদৃশ্য সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না। এছাড়া রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস থেকে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ইস্যু করা যাবে না। বিএসইসির আইনে এরকম কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোম্পানিগুলো তা মানছে না।


সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ায় একাধিক কোম্পানির ক্ষেত্রে এই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যের জমিতে নিজেদের ভাড়া করা ফ্যাক্টরি স্থাপন কিংবা অন্যের ব্যবহার করা ফ্যাক্টরীকে নিজের দাবি করে তা প্রসপেক্টাসে দেখানো হচ্ছে। নীতিনির্ধারণী মহলের প্রত্যক্ষ দর্শনের অভাব আর কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজারের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতায় কোম্পানিগুলো এই অনিয়ম করে যাচ্ছে। তবে এসব বিষয় পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।



শেয়ারনিউজ/ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭