Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ!




বিশেষ প্রতিবেদক:

ছয় বছর আগেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখেছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। অথচ ইস্যু পুরোনো হতেই বিদ্যমান আইনের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। ফলে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনায় চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে যে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা ছয় বছর পরেও আলোর মুখ দেখেনি।


বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পুঁজিবাজার আইনের আদলে বিনিয়োগকারীদের আইনি স্বার্থ রক্ষার দাবী অনেক পুরোনো। দেশের পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে ঘটে যাওয়া বাজার ধ্বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতি নির্ধারনী মহলের টনক নড়লেও, তা ভুলে যেতেও বেশি সময় লাগেনি। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার আইন প্রণয়ন আর হয়নি। দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘমেয়াদে চার থেকে ছয়মাসের মধ্যে তার ছয়বছরে পরে গেছে ইতিমধ্যে। আইন তো হয়নি, এ ধরনের আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগের সিদ্ধান্তও জানা যায়নি বিএসইসি সূত্রে। হচ্ছে হবে বলেই কালক্ষেপন করছেন কর্তাব্যাক্তিরা, আর ক্রমাগত কোম্পানির লালসা কিংবা গ্যাম্বলারদের কারসাজির স্বিকার হচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ১৯৯৬ সালের শেয়ার কারসাজির মামলাই সমাধান হয়নি। ফলে ২০১০ সালে সম্মিলিত কিংবা এর পরবর্তিতে বিচ্ছিন্ন কারসাজির ঘটনাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ন্যায়বিচারের আবেদন করার কোনো সুযোগও পাচ্ছেন না।


ছককষে বাজার কারসাজিতে ২০১০ এবং ২০১১ অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজার স্মরণকালের সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়ে। এর বিপরীতে বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটির সুপারিশে ২১ দফা কর্মপরিধি নির্ধারন করে কমিশন। ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর নেওয়া তিনস্তরের এ সুপারিশগুলোতে সল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা সন্নিবেশিত করা হয়। ওই পরিকল্পনার মধ্য থেকে বেশকয়েকটি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হলেও স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার সময়সীমা চার থেকে ছয়মাস নির্ধারন করা হলেও ছয়বছরের মাথায়ও কোনো রা নেই বিএসইসি’র। এমনকি সিকিউরিটিজ আইনের ২সিসি ধারাবলে বাজারের স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও দেওয়া হয় কমিশনকে। অথচ অবাককর হলেও সত্যি দেশে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো আইনি উপায় নেই।


বিনিয়োগকারীদের সংগঠনগুলো বিনিয়োগাকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে কি না জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। তাদের মুখের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। তারা কেবলমাত্র ইস্যুয়ার কোম্পানির স্বার্থ দেখছে। ঐক্য পরিষদ ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বাইব্যাক আইন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা বাজার প্রতিষ্ঠাসহ সব বিষয়েই দৃষ্টি আকর্ষন ও স্মারকলিপি দিয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।


বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘স্মল ইনভেস্টরর্স প্রটেকশন অ্যাক্টের নামে আলাদা কোনো আইন প্রণয়ন না করা হলেও বিএসইসি বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সচেতন হলে আলাদা কোনো আইনের আশ্রয় ছাড়াই ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে কমিশন বিশ্বাষ করে’।


বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রথমেই সচেতন বিনিয়োগকারী তৈরী করতে হবে। বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিজেদের বিনিয়োগের প্রবণতা ও গুজবনির্ভর বিনিয়োগ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এটা ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির মাধ্যমেই সম্ভব’। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির মাধ্যমে কেবলমাত্র বিনিয়োগকারীদের শেখানো হবে এই ধারনা থেকে বের হয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিতে আমরা বিনিয়োগকারীদের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এবং তাদের ধারনাকে স্বচ্ছ করতে আগ্রহী। এতে করে দক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরী হবে, যা বিনিয়োগে ক্ষতির মাত্রাকে কমাতে পারবে’।





শেয়ারনিউজ/ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭