Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে পুঁজিবাজারে

ঢাকা, ০৯ জুলাই ২০১৭:

নানামুখী পদক্ষেপে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। বিগত কয়েক বছরের চেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজারে বিনিয়োগ গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও। একইসঙ্গে বেড়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেনসহ সব ধরনের সূচক।

দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থেই পুঁজিবাজারের বিনিয়োকারীদের আস্থা ধরে রাখা জরুরি। পুঁজিবাজারের এ গতি ধারা ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ওপরে জোর দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারণ, বিনিয়োগকারীর আস্থা আর বিশ্বাস নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আসে। তাই কোনো কারণে যেন তারা হতাশ বা ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই দিকে রেগুরেটরদের নজর রাখার খুবই জরুরি। পুঁজি সংগ্রহে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার নেকিবাচক প্রভাব বাজার পরবে। ফলে শিল্পায়নের গতি যেমন বাধাগ্রস্থ হবে। তেমনি বাধাগ্রস্থ হবে নতুন কর্মসংস্থানের পথও।

এদিকে, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সব চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে অঙ্গিকারবদ্ধ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)সহ নিয়ন্ত্রণ সংস্থারা।

ডিএসই কর্তৃপক্ষ মনে করেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশের পুঁজিবাজার পূর্ববর্তী বৎসরগুলোর তুলনায় গতিশীল ছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুঁজিবাজারের গতি এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার পাশাপাশি অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুঁজিবাজারের সব ক্ষেত্রে গতিশীলতা বজায় রেখেই ২০১৬-১৭ অর্থবছরটি মাইলফলক হিসেবে সাফল্যের চিহ্ন রেখে সমাপ্ত হয়। এ অগ্রসরমান বাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয় ঘটিয়ে গতিময় বাজারকে আরও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বাজারের গভীরতাও বৃদ্ধি পাবে।

ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিএসইর লেনদেনের পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ওই সময় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৪৭ কার্যদিবসে গড় লেনদেন ছিল ৪৩৪ কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩৯ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয় ৭৫৫ কোটি টাকা। যা বিগত ৫ অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পুঁজিবাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলো সূচক। ডিএসইতে বর্তমানে তিন ধরনের সূচক চালু রয়েছে। যার সবগুলোই ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা বেঞ্চমার্ক সূচক আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ১৪৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬৫৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ডিএসই ৩০ সূচক ৩১৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ১৮৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। বাজার মূলধনও আগের বছরের তুলনায় ৬১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেয়ারনিউজ/আর.পি/কে.আর