Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

কে আসছে ফু-ওয়াং ফুডের নতুন মালিকানায়?

ঢাকা, ০৯ জুলাই ২০১৭:

মালিকানা পরিবর্তনের আভাস মিলেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুড লিমিটেডের। কিন্তু মালিকানা পরিবর্তনে ফু-ওয়াং ফুডের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কিনলেই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের শর্ত যথাযথ ভাবে পূরণ হচ্ছে না। তাই সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে বাজার দরে শেয়ার সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন তথ্য রয়েছে মতিঝিল পাড়ায়।

তথ্য সূত্র বলছে, দেশের স্বনামধন্য একাধিক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এ কোম্পানির শেয়ার অধিগ্রহণে তৎপর হয়ে ওঠেছে। তার মধ্যে রয়েছে রহিমা ফুডের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কিনে আলোচনায় আসা সিটি গ্রুপ। সূত্র বলছে, রহিমা ফুড ও ফু-ওয়াং ফুডের সমন্বয় করতেই ফু-ওয়াং ফুডের দিকে নজর দিয়েছে সিটি গ্রুপ।

এছাড়াও ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানায় আসতে তৎপর রয়েছে এস আলম, বসুন্ধরা ও প্রান আরএফএল গ্রুপের মত শক্তিশালী গ্রুপ অব কোম্পানিজ। তবে অতিত সম্পর্কের কারনে এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে সিটি গ্রুপ।

তথ্যানুযায়ী, ফু-ওয়াং ফুড লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান লিস্টিং রেগুলেশন মেনে তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের স্বনামধন্য একাধিক গ্রুপ এ কোম্পানির শেয়ার অধিগ্রহণে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানা অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি তৎপর রয়েছে সিটি গ্রুপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, ফু-ওয়াং ফুড দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে তাদের উৎপাদিত পন্য বাজারজাত করে আসছে। যা বাংলাদেশের কৃষক জনতা থেকে সর্বমহলের কাছে জনপ্রিয়। আর ফু-ওয়াং ফুডের এই ব্যান্ড ভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য শিল্পে মার্কেট লিডারের ভূমিকায় যেতে যায় সিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০১৭ শেষে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৪.৭৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.২৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৮.০১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর এ পরিস্থিতিতে কোন গ্রুপ যদি এই কোম্পানিটির মালিকানা অধিগ্রহণ করতে চায়, তবে তাদেরকে বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। যা কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে নেই।

তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আগ্রহী ক্রেতারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। কোম্পানিটির এক মাসের ব্যবধানে শেয়ার হোল্ডিং পজিশনের ব্যবধান তারই ইঙ্গিত করে। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ২১.১০ টাকায় লেনদেন হয়।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

শেয়ারনিউজ/এস.আর/কে.কে.আর