Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

দর বাড়লেই নোটিশ, কমলে চুপ!




ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০১৭ :

যেকোন শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়লেই কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলো। যা সত্যিই প্রসংশনীয়। কেননা কোন কোম্পানির শেয়ার দর কারণ ছাড়া অস্বাভাবিক হারে বাড়লে সেখানে কারসাজির সম্ভাবনা থাকে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। তাই বাজারের নীতি-নির্ধারক হিসেবে এর কারণ খতিয়ে দেখা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নৈতিক দায়িত্ব্য। কিন্তু একটি কোম্পানির শেয়ার দর বাড়লেই যে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা কিন্তু নয়। কারণ ছাড়া কোন কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে এক্ষেত্রে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। অথচ সেখানেও কারসাজির সম্ভাবনা থাকে। কারণ একটি গোষ্ঠি সিন্ডিকেট করে একটি কোম্পানির বৃহৎ অংশের শেয়ার নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ওই শেয়ারকে ঘিরে চাহিদার সৃষ্টি হয়। কিন্তু চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় সেখানে সব শ্রেনীর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। তখনই ওই শেয়ারের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকে।


এদিকে কোন শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে কমলেও ডিএসই ও সিএসই’র নিস্কিৃয় ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের কমতি নেই। তাদের অভিযোগ, একটি শেয়ারের দাম বাড়লে ডিএসই ও সিএসইর যে ধরণের পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়, কোন কোম্পানির শেয়ার দর কমলে তেমনটা দেখা যায় না। অথচ সেখানেও একটি চক্র নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য কারসাজি করে থাকে।


বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন কোম্পানির ধারাবাহিক দর বৃদ্ধির নেপথ্যে যেমন কারণ প্রয়োজন ঠিক তেমনই অব্যাহত দর পতনের পিছনেও কারণ প্রয়োজন। তাই, দর বাড়লে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ যেমন সক্রিয় হয়ে পড়ে কমলেও একই ভূমিকা থাকা উচিত।


তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, জানুয়ারির পর থেকে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিভিন্ন কোম্পানিকে ৬৬ বার দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হওয়া হয়েছে। কিন্তু এসময় দর কমার কারণ জানতে চেয়ে কাউকে নোটিশ দেওয়া হয়নি।


সূত্র জানায়, গত ৪ এপ্রিল সূচক, বাজার মূলধন রেকর্ড গড়লেও ওই সপ্তাহে বাজারের (২ থেকে ৬ এপ্রিল) লেনদেন হওয়া ৩৩৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৮টির বা ৫৩.৪৫ শতাংশের। এদিকে, ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল সমাপ্ত সপ্তাহে বাজারের তালিকাভুক্ত ৩৩৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ৬০.৩৬ শতাংশের বা ২০১টি প্রতিষ্ঠানের। এ সপ্তাহে বাজারের সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ৯০.৫৪ পয়েন্ট।


এদিকে, রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসই’র লেনদেনে মন্দা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ৫৩.০৩ পয়েন্ট।


বিনিয়োগকারী আবু ইউসুফ শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, বাজারের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় কোন শেয়ারের দর অব্যাহত বাড়লে দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের নোটিশে দর পতনে ভুগে ওই কোম্পানি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় দর বাড়ার কোন কারণ নেই ? প্রত্যেকটি কোম্পানির পক্ষে একই ঘটনা ঘটে। স্টক এক্সচেঞ্জও তাই বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, যখন প্রত্যেক কোম্পানিতে একই ঘটনা ঘটে তবে নিয়ম রক্ষার এ নোটিশ না দিয়ে গোপনে তদন্ত করে দর বাড়ার কারণ খুজে বের করলেই চলে।


আবু ইউসুফ আরও বলেন, দর বাড়লেই কোম্পানিকে নোটিশ দেওয়া হয়, দর কমলে কেন নোটিশ দেওয়া হয়না।


বিনিয়োগকারী রতন বিশ্বাস শেয়ার নিউজকে বলেন, দর বাড়ার সময় কারসাজি হয়, দর কমার সময় কি কারসাজি হয়না।তাহলে গত দুই সপ্তাহে ৫০ শতাংশের উপরে কোম্পানির দর কমলেও কেন একটি কোম্পানিকেও দর কমার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে নোটিশ প্রদানে এমন নাটক বন্ধ করা উচিত। কারণ, এই নোটিশ নোটিশ খেলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিনিয়োগকারীরা।




শেয়ারনিউজ/শফিউল আলম/কে.আর