Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধে কোম্পানিগুলোর গড়িমসি!




ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০১৭:

শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ২০০৬ সালে শ্রম আইন-২০০৬ গঠন করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী সকল প্রাতিষ্ঠানিক, অ-প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের আয়ের একটা অংশ শ্রমকল্যাণ ফান্ডে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ আইন প্রণয়নের পর দশ বছর অতিবাহিত হলেও কল্যাণ ফান্ডে সারা নেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানি। আর যেসব কোম্পানি নিয়মিত শ্রমিক কল্যান ফান্ডের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করছে তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রেনেটা লিমিটেড, ফু-ওয়াং সিরামিক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, গ্রামীণফোন অন্যতম।


শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে তথ্য থেকে জানা যায়, কয়েক হাজার কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৮৪টি কোম্পানি নিয়মিত শ্রমিককল্যাণ ফান্ডে টাকা জমা দিচ্ছে। বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। মার্চ পর্যন্ত এই ফান্ডে ২০৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে। দেশে কোম্পানিগুলোর হিসাব করলে প্রতিবছর ৮০ কোটি টাকা জমা হওয়ার কথা।


শ্রমআইন অনুযায়ী যেসব কোম্পানির মূলধন ২ কোটি টাকার উপরে, তাদের ঘোষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ আলাদা করতে হবে শ্রমিকদের জন্য। এই ৫ শতাংশকে ১০ ভাগ করে ৮ ভাগ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। আর একভাগ ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিককল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে। বাকি একভাগ জমা পড়বে শ্রমমন্ত্রণালয়ের শ্রমিককল্যাণ ফান্ডে।


কল্যাণ ফান্ডের এই টাকা অসুস্থ, অসহায়, দুর্ঘটনায় কবলিত শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা। এখন পর্যন্ত জমাকৃত টাকার কিছু অংশ তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেডের অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এবং রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হয়েছে। তা-ও খুবই সামান্য। টাকার সঠিক হিসাব মন্ত্রণালয়েও পাওয়া যায়নি।


শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে হাজার হাজার কোম্পানি রয়েছে। অথচ শ্রমিককল্যাণ ফান্ডে টাকা জমা দিচ্ছে মাত্র ৮৪টি। এটা আরও ব্যাপক হওয়া উচিত। আমরা চেষ্টা করছি অডিট ফার্মকে যুক্ত করে কোম্পানিগুলোকে চাপ দিতে। এখন অডিট রিপোর্ট দেওয়ার আগে এটা নিশ্চিত করার হচ্ছে। এটা আইনেই আছে। আইন সবার জন্য সমান। তাই টাকা দিতেই হবে।


এদিকে শ্রমিককল্যাণ ফান্ডের টাকা গরিব অসহায় শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ায় ব্যয় করার উদ্যেগ নিয়েছে সরকার। কোনো শ্রমিকের সন্তান যদি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে, তাহলে তাকে এককালীন ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। একইভাবে কোনো শ্রমিকের সন্তান যদি পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে পারে, তাহলে সেও পাবে ৩ লাখ টাকা। আর যদি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এজন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৫০/৬০ জন আবেদন করেছে এই খাতের সহায়তার জন্য।


এখন পর্যন্ত যেসব কোম্পানি শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে টাকা দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে: কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড, রেনেটা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনেটা লিমিটেড, ফু-ওয়াং সিরামিক, নেক্সাস সুয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা:) লিমিটেড, দি বেঙ্গল গ্লাসওয়্যার লিমিটেড, এসিএস টেক্সটাইল বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ- আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, নেসলে বাংলাদেশ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, টিএম টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, রবি আজিয়াটা বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন লিমিটেডসহ ৮৪টি প্রতিষ্ঠান তাদের ঘোষিত লভ্যাংশের অংশবিশেষ জমা দিয়েছে।





শেয়ারনিউজ/এইচকে