Print
প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ

ডেডলাইনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার




বিশেষ প্রতিনিধি:

ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বা কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে তাদের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ২০১৩ সালে কার্যকর হওয়া ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী ৩ বছরের মধ্যে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর (কৌশলগত বিনিয়োগকারী) খুঁজে বের করার কথা ছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর চূড়ান্ত করতে পারেনি। পরবর্তীতে বিএসইসি এ সময় সীমা বাড়িয়েছে। যার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের জুনে। এক্ষেত্রে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে ইচ্ছুকদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই আবেদন করতে হবে। তবে বেধে দেয়া এ সময়ের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার চূড়ান্তে আদৌ সফল হতে পারবে কি-না, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা থাকলেও ডেডলাইনের আগেই পার্টনার চূড়ান্তে দৃঢ় প্রত্যয়ী উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি)।

তারা জানান, খুব শিগগিরই স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নির্ধারণ হবে। আর আগামী ৩০ এপ্রিলের পড়ে জানা যাবে কারা হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার।


ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি ডিএসইর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নাসডাক, আইএফসি (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন), গ্রুমার্স এন্ড পার্টনারস, সিডিসি (কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন), কিংসওয়ে ক্যাপিটাল, আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং ও স্কয়ার গ্রুপ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে ইচ্ছুক। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিএসই’র একাধিক বোর্ডসভায় প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেছে। পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিগুলোর তুলে ধরা প্রেজেন্টেশনের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছে।


এ বিষয়ে আলাপকালে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে.এম মাজেদুর রহমান বলেন, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বা কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণে ডিএসই’র ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হতে ইচ্ছুকদেরকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অনেকেই এরমধ্যে যোগাযোগও করেছে। এই মূহুর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে ৩০ এপ্রিলের পড়ে জানানো হবে কে হবে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


অন্যদিকে সিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় মালীকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। প্রাথমিকভাবে আইসিবি’র সাথে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছে সিএসই। আইসিবিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি সই হয়েছে।


জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর আইসিবির সাথে সিএসই এ চুক্তি সম্পন্ন করে। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী আইসিবিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি সই হয়েছে। এর আগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিতে আগ্রহপত্র আহ্বান করে সিএসই।


জানতে চাইলে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, গত ডিসেম্বরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে আমরা নির্ধারণ করতে পারেনি। আশা করি আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ করতে পারবো। অবশ্য ইতোমধ্যে আইসিবি’র সাথে একটি সমঝোতা স্বারক সাক্ষর হয়েছে সিএসই’র সাথে। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে এখনও তাদেরকে চূড়ান্ত করা হয়নি।


প্রসঙ্গত, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম অনুসারে বিদেশি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ, খ্যাতনামা আর্থিক, দেশি- বিদেশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, মূলধনী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অথবা ওই জাতীয় প্রতিষ্ঠান স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হতে পারবে।




শেয়ারনিউজ/তারেক