Print
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

কাতালান নেতা পুজেমনের আত্মসমর্পণ




ঢাকা, ০৫ নভেম্বর ২০১৭:

কাতালোনিয়ার ‘ক্ষমতাচ্যুত’ নেতা কার্লোস পুজেমনসহ স্বাধীনতাপন্থি পাঁচ নেতা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রসিকিউটরের দপ্তরের মুখপাত্র বিবিসিকে এ খবর জানিয়েছেন।

তিনি জানান, স্প্যানিশ আদালতের দায়ের করা ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ওই পাঁচজনের বিষয়ে সোমবার সকালে আদালতে তোলার পর বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন। বিচারক তাদের গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নিলে বেলজিয়ামকে ৬০ দিনের মধ্যে তাদের স্পেনে পাঠিয়ে দিতে হবে।

স্বাধীনতা ঘোষণার নামে বিদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগে স্পেনের একটি আদালত গত শুক্রবার পুজেমনসহ স্বাধীনতাকামী পাঁচ কাতালান নেতার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এর মধ্যে পুজেমন ছিলেন স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট। বাকি চারজন হলেন তার সরকারের কৃষিমন্ত্রী মেরিটজেল সেরেট, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এন্টনি কমিন, সংস্কৃতিমন্ত্রী লুইজ পুইজ এবং শিক্ষামন্ত্রী ক্লারা পনসাতি।

গত ২৭ অক্টোবর কাতালোনিয়ার পার্লামেন্টে স্বাধীতার ঘোষণা আসার পর আঞ্চলিক সরকার ভেঙে দিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করে স্পেন। সেই সঙ্গে পুজদেমন ও তার মন্ত্রীদের বরখাস্ত করা হয়।

এরপর কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাপন্থি এই নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তার আগেই চার সহযোগীকে নিয়ে বেলজিয়ামে চলে যান পুজদেমন।আদালতের সমনে হাজির না হওয়ায় গত শুক্রবার স্পেনের একজন বিচারক ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।


পুজেমন এর আগে বলেছিলেন, সুবিচারের নিশ্চয়তা না পেলে তিনি স্পেনে ফিরতে চান না। স্বাধীনতার দাবি আরও জোরদার করতে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোকে একজোট হয়ে ডিসেম্বরের আঞ্চলিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।


বিবিসির খবরে বলা হয়, ওই পাঁচ কাতালান নেতা স্থানীয় সময় রবিবার সকালে বেলজিয়ামের ফেডারেল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সে সময় তাদের সঙ্গে তাদের আইনজীবীরাও ছিলেন।


ব্রাসেলসের প্রসিকিউটরের দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের হাতে ২৪ ঘণ্টা সময় আছে আদালতে তোলার জন্য। বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের নিয়ে কী করা হবে।’


গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কাতালোনিয়ার নেতা কার্লোস পুজেমনসহ তার সরকারের ১৯ সদস্যের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। বিচ্ছিন্নতাবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে স্পেনের একটি কোর্টে বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। শুনানি শেষে ক্ষমতাচ্যুত কাতালোনিয়া সরকারের আট মন্ত্রীকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন আদালত।


কাতালোনিয়ার বাতিল হওয়া সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্পেনের কৌঁসুলিদের দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৫ থেকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।




শেয়ারনিউজ/ডেস্ক