Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮:

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতি করায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দন্ডিত হয়ে কারাগারে গেছেন। এ মামলা সরকার করেনি, তাঁর পছন্দের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারই করেছে। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করেন না। করলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রচলিত আইনে করতেন না। তাই খালেদা জিয়ার দন্ড নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে কোন লাভ হবে না।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারি দলের ছবি বিশ্বাস, এ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন ও শাহানারা বেগম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে গত ৮ বছরে দেশের যা উন্নয়ন হয়েছে, অতীতে কখনো হয়নি। অথচ রাজপথের একটি বিরোধী দল আছে যাদের চোখে কোন উন্নয়নই চোখে পড়ে না। আর আইনের শাসন থাকায় দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেছেন। এখানে সরকারের কোন হাত নেই। আর মামলাও বর্তমান সরকার করেনি। এই বিএনপিই ক্ষমতায় থাকতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার না করে বরং পুরস্কৃত করেছে। তাদের মুখে বড় কথা মানায় না। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমসিকিউ প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে। তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ থাকবে না। একটি চক্র প্রশ্ন ফাঁস করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দন্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়েছেন। অথচ বিএনপি বলে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে নাকি দন্ডিত করা হয়েছে। বাস্তবে মিথ্যা মামলা কাকে বলে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে দেখিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা প্রচলিত আইনে হতো না। ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত খুনীদের শাস্তি দিতে পারতেন। তাই বিএনপির ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা কোনদিনই সফল হবে না।

জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও দেশে সঠিকভাবে এখনও সুশাসন নিশ্চিত হয়নি। দুর্নীতি এখনও দেশের বড় বাধা। গণতান্ত্রিক সঠিক পরিবেশও এখন সৃষ্টি হয়নি। ব্যাংক কেলেঙ্কারীর কারণে জনগণ এখন ব্যাংকে টাকা রাখতেও ভয় পাচ্ছে। ফার্মারস ব্যাংকের লুটপাট হয়ে গেছে। প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা বিশ্বের কোথাও নেই। কোমলমতি বাচ্চাদের ওপর এই পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?

ছবি বিশ্বাস বলেন, অগণতান্ত্রিক অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে আবারও পিছিয়ে দিতে চায়। আগামী নির্বাচনকে নিয়েও তারা নানা রকম চক্রান্তে লিপ্ত। দেশের বর্তমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রূখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।