Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়





ঢাকা, ০২ জানুয়ারি ২০১৮:

আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে ঢাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।সংগঠনটির তথ্যমতে ২০১৬ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এবার সব মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালে সেবা সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।মঙ্গলবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ক্যাব আয়োজিত জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন তুলে ধরেন ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান।


২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার, ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবা সার্ভিসের তথ্য্ বিবেচনা করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে চালের গড়মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে সরু চালের তুলনায় মোটা চালের দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়াও ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। যেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কথা, সেখানে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেশি বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজের তুলনায় বিদেশি পেঁয়াজে প্রায় ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।


ক্যাবের দেয়া তথ্যমতে, দেশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়াও শাকসবজিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। গরুর মাংসে দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।


সংবাদ সম্মেলনে সার্বিকভাবে মাছের দাম বাড়লেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে উৎপাদিত কই মাছের দাম চার দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে বলে জানানো হয়। আর ইলিশের দাম কমেছে এক দশমিক ৪৯ শতাংশ।এছাড়াও অন্যান্য পণ্যের দিক দিয়ে মসুরের ডাল, ফার্মের ডিম, আলু ও নারিকেল তেলেও দাম কমেছে।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে খুচরা বাজারে চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এপ্রিল থেকেই চালের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এক পর্যায়ে খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ টাকার উপরে চলে যায়। আর চিকন চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ থেকে ৭২ টাকায় উন্নীত হয়। এর পরবর্তীতে আমদানি শুল্ক হার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথম পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং সেখান থেকে ২ শতাংশ হ্রাস করা হয়। এর ফলে আমদানিকৃত মোটা চালের দাম কমে ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় নেমে আসে।


গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে গোলাম রহমান বলেন, ‘গত বছর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়ায়। তখন আমরা এর বিরোধিতা করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে উচ্চ আদালত দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্য ৮০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা বৃদ্ধিকে অবৈধ ঘোষণা করে ৮০০ টাকায় নিয়ে আসে। এতে করে বাসা বাড়িতে খুব একটা বেশি না হলেও অন্তত ১৫০ টাকা হলেও সাশ্রয় হচ্ছে।’


ক্যাব সভাপতি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। হৃদরোগ, কিডনি প্রতিস্থাপনসহ প্রায় সব ধরণের জটিল রোগের চিকিৎসা এই দেশেই সম্ভব হচ্ছে। তবে ২০১৭ সালেও এই স্বাস্থ্য সেবা অন্যান্য বছরের মত প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যয়বহুল ছিল। তবে দেশে স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হলে ধনী গরিব সকলেরও প্রয়োজনমত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হতে পারে। সেই সঙ্গে টাকার অভাবে কারও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।’





শেয়ারনিউজ/এআর