Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়




ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭:

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা গেছে ১৩ জন।

পাশিপাশি ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া, শাসকষ্ট, সর্দি-কাশিজনিত রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে যেন এসব রোগ ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা-নির‌্যাতন থেকে বাঁচতে গত চার মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাখাইনের কিছু পুলিশ ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ তুলে রাখাইনদের জাতিগত নিধন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ২৫ থেকে দলে দলে পালাতে থাকে রোহিঙ্গারা।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় কেন্দ্র খুলে বাংলাদেশ সরকার। খাদ্য-চিকিৎসাসেবাসহ তাদের জীবনধারণে সহায়তা করছে জাতিসংঘ।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির পাশাপাশি বর্তমানে ঠান্ডায় খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। সব মিলিয়ে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত ও চর্মরোগে ভুগছে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

এর মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে ডিপথেরিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ১ মাসে ডিপথেরিয়া রোগে মারা গেছে ১৩ জন রোহিঙ্গা। যত্রতত্র-অপরিকল্পিত টয়লেট ব্যবস্থাপনার কারণে কমছে না ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, ঠান্ডা, কাশি, জ্বর এখানে একটি ফ্লুর মতো হয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘গত তিন মাসে আমরা ১০ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছি। বর্তমানে সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও চর্মরোগের পাশাপাশি ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।’

ডিপথেরিয়ার বিস্তার ঠেকাতে এরই মধ্যে গণস্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা কম বলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ১২ দিনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ক্যাম্পে আশ্রিত ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী সব রোহিঙ্গাকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বায়ু ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় লোকজন। যেকোনো মুহূর্তে তাদের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসকরা প্রতিষেধক নেওয়ার পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিলুপ্ত ডিপথেরিয়া রোগের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।