Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়





ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭:

ফেসবুকের কাছে সরকার তথ্য চেয়ে ভালো সাড়া পেয়েছে। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। যার ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাড়া দিয়েছে ফেসবুক। মোট ২১ টি অ্যাকাউন্ট নিয়ে ব্যবস্থাও নিয়েছে ফেসবুক।

১8 ডিসেম্বর প্রকাশিত ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ফেসবুক প্রতি ছয় মাস পরপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কোন দেশের সরকার ফেসবুকের কাছে কী ধরনের অনুরোধ জানায়, তা তুলে ধরা হয়। তবে কোন অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়, তা উল্লেখ করা হয় না।

সরকারের পক্ষ থেকে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৪টি অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত যে অনুরোধ করা হয়েছে তার মধ্যে কনটেন্ট বন্ধ করার অনুরোধ নেই। ১০টি অ্যাকাউন্টের প্রিজার্ভেশন বা সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়েছে ব্যবহারকারী বা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হয়েছে ১১ টির। ফেসবুকের কাছে যে অনুরোধ গেছে তারমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় ২০টি অনুরোধে ২১ জন ব্যবহারকারী সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফেসবুক এক্ষেত্রে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ তথ্য সরবরাহ করেছে।

জরুরি হিসেবে ফেসবুকের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে ২৪টি অনুরোধে ২৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফেসবুক এক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ তথ্য সরবরাহ করেছে।

ফেসবুকের কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ যেমন বেড়েছে, তেমনি ফেসবুকের সাড়া বেড়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকের কাছে তথ্য চেয়ে ৪৯টি অনুরোধ পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে ৫৭টি ছিল ব্যবহারকারীর তথ্য সংক্রান্ত। ফেসবুকের সাড়া দেয়ার হার ২৪.৪৯ শতাংশ।

এর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য চেয়ে ফেসবুকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল ২৪টি। ব্যবহারকারীর তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয় ৩২টি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকের সাড়া দেয়ার হার ছিল ৮.৩৩ শতাংশ।

এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চেয়ে ফেসবুকের কাছে ২৫টি অনুরোধ জানানো হয়। যার সব কটি ছিল ব্যবহারকারীর তথ্যসংক্রান্ত। এই অনুরোধের ৪০.০০ শতাংশ সাড়া মিলেছে।

প্রতি ছয় মাস পর পর ফেসবুক এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে। যাতে সরকার ফেসবুকের কাছে কী ধরনের তথ্য চেয়ে আবেদন করে তা উল্লেখ থাক। তবে কোন অ্যাকাউন্টের জন্য তথ্য চাওয়া হয়েছিল তা উল্লেখ করা হয় না।

২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তথ্য নিয়ে ফেসবুক ২১ ডিসেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সব মিলিয়ে ১০টি অনুরোধ জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। যার নয়টিই ছিল ব্যবহারকারীর তথ্য সংক্রান্ত। এই অনুরোধে ২০ শতাংশ সাড়া দিয়েছে ফেসবুক। এর মধ্যে ১টি ছিল জরুরি আবেদন। এতে ১০০ শতাংশ সাড়া মিলেছে।

বাংলাদেশ সরকারের ফেসবুকের কাছে তথ্য চেয়ে করা আবেদনের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় ২০১৩ সালে। সে বছরের প্রথম ছয় মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায় সরকার ১২ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য চেয়ে ফেসবুকের কাছে একটি অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু ফেসবুক সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফেসবুক মোট আটটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় বাংলাদেশ সরকারের ফেসবুকের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদনের পরিমান যেমন বেড়েছে তেমনি করে ফেসবুকও আবেদনের প্রেক্ষিতে সারা দেয়ার হার বেড়েছে।





শেয়াপরনিউজ/