Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়

রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছিলেন এস কে সিনহা: খাদ্যমন্ত্রী




ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৭:

বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আওয়ামী লীগের আগের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ করা পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। আর একই বিবেচনায় তিনি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হন। তবে এই রাজনৈতিক বিবেচনায় কী কী ছিল তা জানাননি তিনি।


প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায়ের প্রেক্ষিতে সরকারে দলে ওঠা তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে খাদ্যমন্ত্রী শনিবার এই কথা বলেছেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় শোক দিবস, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি শীর্ষক’ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।


বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড কাউন্সিল টেররিজম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হকও। তিনিও ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের তীব্র সমালোচনা করে এই রায় আবেগের বশবর্তী হয়ে দেয়া হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।


কামরুল ইসলাম তার বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯৯৯ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি হয়েছিলেন। একই বিবেচনায় তাকে প্রধান বিচারপতিও করা হয়।১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার তৃতীয় বছরে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আর আওয়ামী লীগ প্রায় আট বছর পর ক্ষমতায় ফেরার কয়েক মাসের মধ্যে ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই আপিল বিভাগে নিয়োগ পান তিনি।


২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা আছে।


প্রধান বিচারপতি তার ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ না দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনামুক্ত যত নিয়োগ হবে, বিচার বিভাগের জন্য তত ভাল হবে।

এই রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে দেখছি একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধকে লালন করেন। তিনি হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বিএনপির বন্ধু হয়ে গেলেন।’

‘প্রধান বিচারপতি এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের সুরেই কথা বলছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ লালন করেন ও বিশ্বাস করেন তিনি কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুরে কথা বলতে পারেন। এক এগারোর কুশীলবদের ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছেন প্রধান বিচারপতি।’




শেয়ারনিউজ/এমকে