Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়

উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, পানি বাড়ছে ঢাকার আশপাশে




ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৭:

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মধ্যাঞ্চলসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা অববাহিকা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে তলিয়ে যেতে পারে ঢাকার নিম্নাঞ্চল। এদিকে উত্তরাঞ্চলে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন দুর্ভোগ। বানভাসি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও ভাঙা ঘর মেরামত নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ত্রাণের জন্য এখনও পথ চেয়ে আছেন মানুষ। কোনো নৌকা দেখলেই সাহায্যের আশায় ছুটছেন তারা। একদিকে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, অন্যদিকে ভেঙে যাওয়া বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট নিয়ে তাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। নিজেরা খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে টিকে থাকলেও তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে গবাদিপশু। গ্রামীণ রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।


উত্তরাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ প্লাবিত না হলেও জেলায় পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহীর বাগমারায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক গৃহবধূর লাশ গতকাল শুক্রবার ভেসে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকালের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকায় ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি কমছে। এতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকায় পানি কমতে পারে। তবে গঙ্গা অববাহিকা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গতকাল দেশের নদ-নদীর ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ৪৬টিতে পানি কমেছে। আর ৪৩টিতে বৃদ্ধি এবং একটি নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে দেশের ২৮টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর রয়েছে। তবে ঢাকার চারদিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত দেশের ২৭ জেলার অর্ধকোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কারণে গত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৭৭ জনের। এ ছাড়া চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় ছয় লাখ ১৮ হাজার ৭০৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা আরও জানান, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নেত্রকোনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর ও টাঙ্গাইলে তিন হাজার ১৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের আরও খবর :


গাইবান্ধা :দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। জেলার সাত উপজেলাতেই কাঁচা-পাকা সড়কের ওপর পানি ওঠায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কাঁচা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭৫ কিলোমিটার, দেড় কিলোমিটার বাঁধ ও ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২টি। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পানিবন্দি মানুষের খাবারের অভাব তো রয়েছে, তার সঙ্গে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। গো-খাদ্যের চরম সংকটে বেসামাল হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার সাত উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে আজ শনিবার থেকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

গাইবান্ধা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপরে, ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।


ফরিদপুর : গত ১২ ঘণ্টায় পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল রাতে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলা পাউবো জানায়, পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোলডাঙ্গী ও মোহাম্মদপুরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চিকিৎসা নিতে পারছেন না দুর্গত মানুষ। এদিকে চরভদ্রাসন সদর গাজিরটেক ইউনিয়নের ২৪টি পরিবার পদ্মার ভাঙনে গৃহহীন হয়ে বেড়িবাঁধসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।


মুন্সীগঞ্জ :পদ্মার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৪টি উপজেলার নদীতীরবর্তী ৪২টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গতকাল সকালে প্লাবিত হয়েছে শ্রীনগরের ভাগ্যকুল বাজার সড়ক ও ইউপি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠসহ দুটি গ্রাম। এ ছাড়া জেলা সদর, লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী গ্রাম ও রাস্তাঘাটে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজংয়ের পদ্মার চরে বসবাসরত কয়েক হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জের সব সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দোহার (ঢাকা) :উপজেলায় গতকাল থেকে নতুন করে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত দোহারের মাহমুদপুর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের সব গ্রাম তলিয়ে গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-দোহার সড়কের পশ্চিমপাড় পদ্মা তীরবর্তী এলাকা মুকসেদপুর, নারিশা, সুতারপাড়া, নয়াবাড়ী, মাহমুদপুর ও বিলাসপুর ইউনিয়নের গ্রামের ঘরবাড়ি ও বেশির ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। সকাল থেকে এসব এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওষুধ বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। ইউএনও কেএম আল আমিন বলেন, পানিবাহিত রোগ থেকে মা-শিশু ও তাদের পরিবারকে রক্ষায় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।


মানিকগঞ্জ : সাটুরিয়া ও শিবালয় উপজেলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। পশ্চিম চরতিলি্ল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে পাউবোর দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধের একাংশ ভেঙে ও এলাকার কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। রাস্তা ঘাট ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মানুষ বাড়ি থেকে নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ছাড়া বের হতে পারছেন না। শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের ঘরে দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাব। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় দুই উপজেলার সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।


রাজবাড়ী :রাজবাড়ীতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রেললাইনে পানি ওঠায় গোয়ালন্দ থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজবাড়ী স্টেশন মাস্টার মো. কমরুজ্জামান জানান, রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় কোনো ট্রেনই দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত যেতে পারছে না। তবে সতর্কতার সঙ্গে গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে মানুষ পড়েছেন বিপাকে। ঘরের মধ্যে উঁচু মাচা করে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধ ও উঁচু কোনো স্থানে। গতকাল জেলা প্রশাসন ৫১২টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে।


শেরপুর :সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চরপক্ষীমারী, চরমোচারিয়া, কামারের চর, বলাইয়ের চর, বেতমারী-ঘুঘরাকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গতকাল সকালে নতুন করে রৌহা, চরশেরপুর, কামারিয়া ও গাজীর খামার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। ভাগলগর ও টাকীমারী এলাকার রাস্তাঘাট এখনও ৩-৪ ফুট পানির নিচে।


নাটোর :সিংড়ার আত্রাই ও গুড় নদী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে গতকাল সকালে সিংড়া পৌর এলাকার নিংগইন, গোডাউনপাড়া ও চক সিংড়া প্লাবিত হয়েছে। সিংড়া পৌর শহরের বাজার এলাকার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন দিয়ে উল্টো বাজারেই প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। সিংড়া-বলিয়াবাড়ি ৩ কিলোমিটার মূল পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।


রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) :বন্যায় পিলার ভেঙে রেল সেতু দেবে যাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশের সঙ্গে রাজারহাট-কুড়িগ্রাম রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় অতিকষ্টে যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ভুগছেন বানভাসি মানুষ। গো-খাদ্যের অভাবে গৃহপালিত পশু নিয়েও বিপাকে রয়েছেন তারা। শুকনো খাবারের ওপরই জীবন চলছে তাদের। এর মধ্যে কোথাও কোথাও সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।


মধুপুর (টাঙ্গাইল) :উজানে তিস্তা ও যমুনার পানি কমলেও ঝিনাই এবং বৈরান নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঝিনাই নদীর কেরামজানী বাঁধ এবং বৈরান নদীর মুশুদ্দি কসাইবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে মাছের ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।


ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ায় তলিয়ে যাচ্ছে উচাখিলার মরিচারচর নতুনচর গ্রামটি। ইতিমধ্যে গ্রামের অর্ধশত বাড়িতে পানি উঠে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি বাড়তে থাকায় গ্রামটির প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ওই অবস্থায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে গ্রামটিতে। গতকাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ওই গ্রামে ছুটে যান। তিনি মানুষের দুরবস্থার কথা ইউএনওকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন।


ঈশ্বরদী (পাবনা) :গতকাল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৬৮ মিটার পর্যন্ত ঠেকেছে, যা বিপদসীমার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৭ মিটার নিচে। পদ্মার ঈশ্বরদী অংশে প্রতিদিন হু হু করে পানি বাড়ছে। রক্ষা বাঁধের বল্গক ইতিমধ্যে দু-এক জায়গায় ধসে পড়েছে। সাঁড়ার ঘোষপাড়া, বড়পাড়া এলাকায় বাঁধের ফাটল দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ঈশ্বরদী-লালপুর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। পদ্মা পাড়ের মানুষ বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।


উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) :গত ২৪ ঘণ্টায় ফুলজোর ও করতোয়া নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার উধুনিয়া, বড়পাঙ্গাসী, মোহনপুর, দুর্গানগর, বাঙ্গালা, কয়রা, পঞ্চক্রোশী, সলপ ইউনিয়নসহ পৌরসভার ৫০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। উল্লাপাড়ার ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সরকার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এদিকে উল্লাপাড়া পৌর মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম গত দু'দিনে পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লার বন্যাদুর্গত লোকজনের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।


আদমদীঘি (বগুড়া) :উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু উঠতি আউশ ও রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে। ইউএনও রেজাউল করিম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকার সব ব্যবস্থা নেবে। তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।


মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) :পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩৫ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়কের অষ্টগ্রামের শান্তিপুরের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ঠিকাদার মো. গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন। এ ছাড়া অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর রাস্তার সবুরের খালে নবনির্মিত ব্রিজের পূর্ব পাশে রাস্তা ভেঙে গেছে। ঘোড়াউত্রা নদীর তীর ভেঙে ক্রমেই পূর্ব দিকে আসছে। মিঠামইনে ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পল্লীর নবনির্মিত ৪০টি বসতঘর বর্তমানে পানিতে ভাসছে।


বাগমারায় স্রোতে ভেসে যাওয়া নারীর লাশ উদ্ধার :রাজশাহীর বাগমারায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম জয়নব বিবি (৩৮)। তিনি গোবিন্দপাড়া রমজানপুর এলাকার সাইদুর রহমানের স্ত্রী। বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জয়নব বিবি মান্দা থেকে নৌকায় নিজ গ্রাম রমজানপুরে আসেন। বোয়ালিয়া বিলের বাঁধে নৌকা থেকে নামলে তার পায়ে কাদা লেগে যায়। তিনি ভেঙে যাওয়া বাঁধের প্রবল স্রোতে পা ধুতে গেলে পড়ে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান। তাকে বাঁচাতে তার স্বামী ঝাঁপ দিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরাও তাকে খুঁজে পাননি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে জয়নব বিবির লাশ পানিতে ভেসে ওঠে। ওসি আরও জানান, ওই নারী সাঁতার জানতেন। তার পরও স্রোতের প্রবল টানে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।





শেয়ারনিউজ/ডেস্ক