Print
প্রচ্ছদ » জাতীয়

চলে গেলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্নেল আজাদ



ঢাকা, ৩১ মার্চ ২০১৭:

মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে আহত র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)।র‌্যাব সদর দফতর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।


লে. কর্নেল আজাদ সাহসী ও পেশাদার নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মকর্তা ছিলেন। শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গেও তার আচরণ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। সদা হাস্যোজ্জল ও বন্ধুবাৎসল এই মানুষটির অকালে মৃত্যুর খবর শুনে রাতেই সহকর্মী, বন্ধু ও আত্মীয় স্বজন হাসপাতালে ছুটে যান।


গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গি আস্তানার অদূরে পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পরপর দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে মারা যান দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন। আহত হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আজাদকে নিয়ে ওই ঘটনায় সাতজনের প্রাণ গেল।


আজাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান তাৎক্ষণিক সমকালকে বলেন, দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধুকে হারালাম। জাতি হারালো একজন দেশপ্রেমিকেকে।


আহত হওয়ার পর আবুুল কালাম আজাদকে ঢাকায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ২৬ মার্চ রাতে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় চিকিৎসকদের পরমর্শে গত বুধবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ভর্তি করা হয় সিএমএইচে।


জানা গেছে, আজাদের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ অক্টোবর। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়ায়। তার বাবা রেজাউল করিম, মা সায়েদা বেগম। স্ত্রী-দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তিনি ঢাকায় থাকতেন।


৩৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন আজাদ। তিনি ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে আইও, অ্যাডজুটেন্ট এবং কোয়ার্টার মাস্টারসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন। সেনা কমান্ডো আজাদ সেনাসদর, ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং ১৯ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে এই বাহিনীতে আসেন। তিনি র‌্যাবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর আজাদকে ওই বছর শেষেই র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে আনা হয়। দুই বছর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে উইংয়ের পরিচালক হন তিনি।





শেয়ারনিউজ/এআর