Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

বছরজুড়েই টালমাটাল সামগ্রিক অর্থনীতি




ঢাকা, ০১ জানুয়ারি ২০১৮:

আজ শুরু হল নতুন বছর ২০১৮। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর অর্থনীতিতে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের প্রতিকার, নির্বাচনী বছরের কারণে টাকা পাচার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে শ্লথগতির আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রফতানি-রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি ঘটানো।


এছাড়া বিদায়ী বছরে অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক ছিল নিম্নমুখী। বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, বছর শেষে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি দুর্বিষহ করে তুলেছে নিন্মআয়ের মানুষের জীবন। দূরদর্শী নীতির অভাবেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা আর্থিক খাতের সুশাসনকে ব্যাহত করেছে। এ ছাড়া বৈষম্য বৃদ্ধি, সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা, দেশ থেকে টাকা পাচার বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিকাঠামোর অদক্ষতা অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’র বার্ষিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ অবস্থার উত্তরণে আর্থিক খাতে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। রোববার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।


উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। গত ৫ বছর ধরে এ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে। কিন্তু এর সুফল সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যে পৌঁছানোর জন্য দূরদর্শী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা দূর করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেই। এতে বৈষম্য বেড়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণের হার কমেছে। ফলে অনেক উন্নয়নের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ খুব বেশি সুফল পায়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ২০১৬ সালের আয়-ব্যয় জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দারিদ্র্য দূরীকরণের বার্ষিক গড় হার কমেছে। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমেছে। কিন্তু ২০১০ থেকে ২০১৬- এ ৫ বছরে দারিদ্র্য কমেছে গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে। একই সময়ে অতি দারিদ্র্য দূরীকরণের বার্ষিক গড় হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম ক্রমেই বাড়ছে। ২০১০ সালে দেশের ১০ শতাংশ দরিদ্র্য মানুষের মোট জাতীয় আয়ে ২ শতাংশ অবদান ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তা কমে ১ দশমিক ০১ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ২০১০ সালে দেশের ১০ শতাংশ ধনী লোকের মোট জাতীয় আয়ে অবদান ছিল ৩৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। কিন্তু ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থ্যাৎ গরিব আরও গরিব হচ্ছে, বিপরীতে ধনীদের সম্পদ বাড়ছে।


অর্থনীতির অন্যতম একটি উদ্বেগের বিষয় হল কর্মসংস্থান হ্রাস। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বার্ষিক হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিতে এর ব্যাখ্যা হল- সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি।


গবেষণা সংস্থাটির রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদায়ী বছরের মে থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অক্টোবরে তা বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের মে থেকে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হারও নিন্মআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০১০ সালে দেশে মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩১৮। ২০১৬ সালে তা কমে ২ হাজার ২১০ ক্যালরিতে নেমে আসে।


অর্থনীতিতে আরও একটি সমস্যা হল- উৎপাদন সক্ষমতা কমছে। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির, বাড়ছে অর্থ পাচার এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হয়েছে অস্থিতিশীলতা। ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি গড়ে এক শতাংশেরও কম। ২০১১-১২ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগের হার ছিল ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২০১২-১৩ সালে ২১ দশমিক ৭৫, ২০১৩-১৪ সালে ২২ দশমিক ০৩, ২০১৪-১৫ সালে ২২ দশমিক ০৭, ২০১৫-১৬ সালে ২২ দশমিক ৯৯ এবং ২০১৬-১৭ সালে ২৩ দশমিক ০১ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে।


অন্যদিকে দেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ছে। ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ডলার, ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি এবং ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। জিডিপির অন্যতম খাত কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার কমছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও সেবা খাত স্থবির।


অর্থনীতির অন্যতম একটি সূচক হল রাজস্ব আয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো অনুসারে জিডিপির ২২ শতাংশ হারে রাজস্ব আয় হওয়া উচিত। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৬৬, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৭৮, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০ দশমিক ২৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর অর্থ হল- রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। এতে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় শক্তি হচ্ছে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবস্থান। এ অবস্থানকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, এরপরও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটেনি। রেমিটেন্স ও রফতানিতে ধস ছিল। বিবিএসের তথ্য তুলে ধরে বলেন, বিগত দু’দশকের তুলনায় সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচন হারের গতি কমেছে। একই সঙ্গে গ্রামে আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। কমেছে কর্মসংস্থানও। তার মতে, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা এর বেশি অর্জন করে তা ধরে রাখতে চাইলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের বিদ্যমান গতি দিয়ে সম্ভব নয়। এটা আরও বাড়াতে হবে।


পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির পরিবেশ ভালো ছিল। কিন্তু বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে চালের মূল্য বেড়েছে। এর বাইরে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা ঘনীভূত হয় এবং আরও হচ্ছে। যদিও এটি এক বছরে সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু ২০১৭ সালে প্রথম এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও আমদানি ব্যয় বেশি হচ্ছে। ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বেড়ে গেছে। এতে মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি সহজে যাবে না। এটা কাটাতে টাকার অবমূল্যায়ন করার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান ভালো হচ্ছে না। বিশেষ করে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান নেই। আর মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি গত পাঁচ মাসে কমেছে। এটি বিনিয়োগ কমার একটি বড় সূচক।


ব্যাংক কেলেঙ্কারি বছর মনে করা হচ্ছে বিদায়ী এ বছরকে। কারণ সংকট দীর্ঘদিনের হলে ২০১৭ সালেই আলোচনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে ব্যাংকিং খাত নিয়ে। বছর শেষে ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিবর্তন আলোচনায় আসে। পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেন ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের একাধিক সদস্য। ২০১৪ সালে ব্যাপক লুটপাটের পর বেসিক ব্যাংকের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়লে এর চেয়ারম্যান বাচ্চুকে নিরাপদে পদত্যাগের সুযোগ করে দেয়া হয়। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অনিয়মের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলা হলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিলেন।

তবে বছরের শেষদিকে দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ছাড়া সব ধরনের ব্যাংকে কু-ঋণের পরিমাণ ও পুঁজির ঘাটতি বেশি দেখা দেয়া এ বছর।


ব্যাংকিং খাতের বাইরে অর্থনীতিতে আঘাত আনে আগাম ও মৌসুমি বন্যা। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাল ও সবজির উৎপাদন। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ঘাটতির কারণে মজুদ কমে যাওয়া। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এতে চাপ সৃষ্টি হয় রিজার্ভের ওপর। বাজার স্বাভাবিক রাখতে স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণে বাড়ছে ভর্তুকির পরিমাণ। এর বাইরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে মূল্যস্ফীতিও। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বন্যায় এক লাখ ৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতি হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ৫ লাখ হেক্টর জমি। বন্যার কারণে সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টন চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।


এসব কারণে চাপের মুখে পড়েছে মূল্যস্ফীতি। যা শেষ পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। এই দাতা সংস্থার মতে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়েই ছিল।


বিবিএসের সর্বশেষ শ্রম সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে ২০১৪-১৬ এই দু’বছরের মধ্যে মাত্র ১৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বছরে ২০ লাখ শ্রমশক্তি যোগ হচ্ছে।


বছরের মাঝামাঝির পর রোহিঙ্গা সংকট সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমারের গণহত্যা ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গার পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বেড়ে গেছে অপ্রত্যাশিত ব্যয়।


বন্যাসহ কয়েকটি কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের গতিও শ্লথ ছিল। বন্যায় গ্রামীণ অকাঠামোর মধ্যে সাড়ে চার হাজার প্রতিষ্ঠান, সাড়ে ৯শ’ কালবার্ট, ৮৯০ কিমি. রাস্তা ও ১৩২ কিমি. বেড়িবাঁধ ও এক লাখ ৪ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতি হয়েছে। আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ঘরবাড়ি, ১০ হাজার ৫০০ কিমি. রাস্তা, ৬৬৪ কিমি. বেড়িবাঁধ। এসব রাস্তাঘাট মেরামত ও নির্মাণের জন্য প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বরাদ্দ চাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এদিকে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগের বৃদ্ধির গতি এখনও মন্থর। যেখানে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগের মধ্যে সরকারি বিনিয়োগের অবদান ছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ। সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা নেমে এক চতুর্থাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ চাপের পাশাপাশি রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ের প্রবাহে স্থবিরতার কারণে বহির্খাতেও চাপ বাড়ছে। সরকার নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার পর সম্প্রতি রেমিটেন্সপ্রবাহ বেড়েছে।


এদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানির প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। তবে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৃহৎ পরিমাণে সরকারি ও বেসরকারি খাতে চাল আমদানি হয়েছে। যে কারণে অর্থবছরের প্রথম চার মাস (জুলাই-অক্টোবর) আমদানি প্রবৃদ্ধি ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানি খাতে ব্যয় হয় ১ হাজার ৩১৮ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরে একই সময়ে ব্যয় হয় ১ হাজার ২৬৯ কোটি ডলার।





শেয়ারনিউজ/এইচকে