Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত ১০ প্রতিষ্ঠান পেল এলটিইউ সম্মাননা

ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০১৭:

দেশের করদাতারা কর প্রদানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। করদাতাদের কর প্রদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি কর প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে প্রথমবারের মতো ২০১৬-২০১৭ করবর্ষে ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার এলটিইউ এর সম্মেলন কক্ষে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মো: নজিবুর রহমান, এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো: আব্দুর রাজ্জাক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এলটিইউ এর কমিশনার মো: আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হল-ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, পূর্বালী ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, উত্তরা ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টস্ লিমিটেড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড ও আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আবদুল হামিদ মিঞা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয়, দি হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রাসোয়া ম্যারিকো, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ ই এ মুহাইমেন, পূর্বালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হালিম চৌধুরী, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মো: শিরিন, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ খান, উত্তরা ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শামসুল আরেফিন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ মালিক ও আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হামমাদুল করিম সম্মাননা গ্রহণ করেন।

প্রথমবারের মতো দেশের দেশের বড় করদাতাদের এমন সম্মাননা প্রদান করায় এলটিইউ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ব্যাংকিং এবং নন-ব্যাংকিং খাতের ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত এমন প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানের জন্য বিরল এ সম্মাননা প্রদান করায় আমি খুবই আনন্দিত। ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতের জন্য খাতে এটি একটি বড় অর্জন। অর্থনেতিক উন্নয়নে এনবিআর-বাংলাদেশ ব্যাংক পার্টনারশীপ হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাত আয়কর খাতে ৪৯%, নন-ব্যাংকিং খাত ২৫% অবদান রাখছে জেনে খুবই ভালো লাগছে। দেশের অর্থনীতির সাথে সাথে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী বছর প্রবৃদ্ধি ৮% হবে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। আগামী অর্থবছর বাজেটের আকার হবে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। আমাদের অর্থনীতির আকার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়ন আর মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে আমাদের রাজস্ব প্রয়োজন। দেশে ৫৭টি ব্যাংক, ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ইন্স্যুরেন্স খাতকে রাজস্ব আহরণে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৪ অর্জন করতে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। কর আহরণে এনবিআরের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এলটিইউ এর এমন বিরল সম্মাননার ফলে এলটিইউ-বড় করদাতাদের মধ্যে দূরত্ব কমবে, রাজস্ব বাড়বে।

সিনিয়র সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মো: নজিবুর রহমান সর্বোচ্চ করদাতাদের ট্যাক্স চ্যাম্পিয়ান উল্লেখ করে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সারাদেশে করদাতারা কর দিয়ে বাহাদুর দেখাচ্ছেন। আমরা কর বাহাদুরদের স্বীকৃতি দিচ্ছি, মানুষ এগিয়ে আসছেন। এবছর ৮৪ পরিবারকে কর বাহাদুর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজস্ব আহরণে ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর রাজস্ব আহরণে পার্টনারশীপ হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাত থেকে এনবিআর যেভাবে রাজস্ব পাচ্ছে তা জনকল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব। করের টাকায় দেশের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করবো। তিনি ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতে সকল প্রতিষ্ঠানকে আরো বেশি রাজস্ব প্রদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এবং এমন ব্যতিক্রমী সম্মাননার আয়োজনের মাধ্যমে করদাতাদের উদ্ধুদ্ধ করায় এলটিইউকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবছর থেকে এনবিআর ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করে আসছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে কর প্রদানের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এলটিইউ থেকে এবার ২৬ জন সর্বোচ্চ করদাতা ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন। মোট আয়কর লক্ষ্যমাত্রার ২৬% আহরণ করে এলটিইউ। এনবিআর করদাতাদের বেশি পরিমাণ করসেবা প্রদানে ইনোভেশনের মাধ্যমে কাজ করছে। শুধু আয়কর মেলা নয় চলতি বছর আমাদের ইনোভেশন ট্যাক্স ক্যাম্প। ট্যাক্স ক্যাম্পের মাধ্যমে এনবিআরের সকল করসেবা করদাতাদের দোরগৌড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এলটিইউ এর এমন সম্মাননার মাধ্যমে সর্বোচ্চ করদাতাদের সাথে দূরত্ব কমে আসবে, বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক তৈরি হবে।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আবদুল হামিদ মিঞা ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবার এমন সম্মাননা প্রদান করায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক চেষ্টা করছে ব্যাংকিং খাতে আরো ভালো করার। ব্যাংক ভালো করলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব বাড়বে। ইসলামী ব্যাংকের মূনাফা বেশি। সেজন্য প্রতিবছর বেশি পরিমাণ রাজস্ব প্রদান করছে। রাজস্ব আহরণ এবং প্রদানের ক্ষেত্রে এ ব্যাংক সব সময় এনবিআরকে সহযোগিতা করেছে, আগামীতেও করবে। এনবিআর এ সম্মাননার মাধ্যমে যে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভবিষ্যতে আরো বেশি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন এবং অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মাননীয় এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে করদাতা এবং এলটিইউ এর মধ্যে আস্থার সর্ম্পক এবং রাজস্ববান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে এলটিইউ প্রথমবারের মতো করদাতাদের এমন সম্মাননা প্রদান করছে। এলটিইউ কর সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং করদাতাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

ফাংশনাল পদ্ধতির মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০০৩ সালের নভেম্বরে এলটিইউ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার সময় এলটিইউ এর অধিক্ষেত্রাধীন করদাতার সংখ্যা ছিল ৯৩৯। যার মধ্যে কোম্পানি করদাতা ২৫১টি ও ব্যক্তি করদাতা ৬৮৮জন। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর বর্তমানে এর মোট করদাতার সংখ্যা ১ হাজার ১৭৭। এরমধ্যে কোম্পানি করদাতা ৪১৮। যার মধ্যে ৬০টি ব্যাংক, ২৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (লীজিং এন্ড ইনভেস্টমেন্ট), ৬৮টি মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, ৭৪টি ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান, ২৯টি জীবন বীমা, ৪৮টি সাধারণ বীমা, ৬টি মোবাইল অপারেটর, ৬টি ফুড এন্ড বেভারেজ, ১৪টি গার্মেন্ট কোম্পানি, ২৭টি টেক্সটাইল কোম্পানি, ৯টি মাল্টিপল প্রোডাক্টস, ১২টি ফার্মাসিউটিক্যালস ও অন্যান্য ৩৬টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা ৭৫৯ জন। বিদায়ী অর্থবছর এলটিইউ ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে। চলতি অর্থবছর এলটিইউ এর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

শেয়ারনিউজ/