Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ




ঢাকা, ০২ নভেম্বর ২০১৭:

প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের (এবি) চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার ঢাকার দিলকুশাস্থ বিসিআইসি ভবনে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দুদকের পরিচালক এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।


২০১৭ সালের ২৮ জুন বনানী মডেল (ডিএমপি) থানায় দুদক উপপরিচালক শেখ আব্দুস সালাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।মামলায় আসামিরা হলেন- প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আসগর করিম, পরিচালক নাছরিন খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী, এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রাক্তণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফজলুর রহমান, প্রাক্তণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, প্রাক্তণ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মসিউর রহমান চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট সালমা আক্তার, এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট মহাদেব সরকার সুমন, মহাখালী শাখার এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার সৈয়দ ফরহাদ আলম, মহাখালী শাখার প্রাক্তণ এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার (বর্তমানে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড মহাখালী শাখার রিলেশনশিপ ম্যানেজার) আরশাদ মাহমুদ খান, এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখার সাবেক এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার (বর্তমানে গরীব-ই-নেওয়াজ এভিনিউ শাখা) মো. জাহাঙ্গীর আলম, এবি ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট (অপারেশন) বর্তমানে প্রধান কার্যালয় শাহানুর পারভীন চৌধুরী, এবি ব্যাংক মহাখালী শাখার সাবেক এভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে যাত্রাবাড়ী শাখা) জার-ই-এলাহী খান এবং এবি ব্যাংক মহাখালী শাখার সাবেক রিলেশনশিপ অফিসার (বর্তমানে সিটি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের করপোরেট বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট) মো. কামারুজ্জামান।


মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে, অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভের জন্য প্রতারণা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনকভাবে প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিবিটিএল) ব্যাংক গ্যারান্টির আবেদন কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যাংকের ঋণ প্রদান সংক্রান্ত নিয়ামাচার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার উপেক্ষা করে জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করার জন্য এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখা থেকে প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করে।


ওই প্রস্তাব অনুমোদন করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে শাখার প্রস্তাব ও ক্রেডিট কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তৎকালীন সময়ে কর্মরত তিনজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহায়তায় চারটি বোর্ড সভার মাধ্যমে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার অপরিবর্তনীয় শর্তবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি অনুমোদন করা হয়।এরপর ওই অপরিবর্তনীয় শর্তবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি সহায়ক জামানত হিসেবে ব্যবহার করে প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১০০ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা, কমার্স ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১০ কোটি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডে (সাবিনকো) থেকে ২৩ কোটি, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৩০ কোটি, ফোনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ৪৭ কোটি, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৫০ কোটি, সিটি ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ, টাকাসহ মোট ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে।


এই ঋণের মেয়াদ ছিল এক বছর। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ৩৬৩ টাকা। আসামিরা ওই পরিমাণ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করায় তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯/৪২০ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলাটি দায়ের করা হয়।





শেয়ারনিউজ/