Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

সাত বছরে সেপ্টেম্বরে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স

ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭:

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমেছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা একক মাস হিসেবে গত ৭ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে গত ২০১০-১১ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে কম ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে বাংলাদেশে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা। এছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রফতানিতে ভাটা ও হুন্ডি বা অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়া রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে দেশে ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের মাস আগস্টে পাঠিয়েছিল ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। সেই এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৫৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২০ কোটি ২৯ লাখ বা ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসে ১০৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরের পর থেকে গত সাত বছরে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৫৩১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। দেশের ইতিহাসে একক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ওই অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার। আর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে ২০১০-১১ অর্থবছরে সেপ্টেম্বরে ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর সাত বছরের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থ বছরেই সবচেয়ে কম এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে।

এদিকে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬২ কোটি ৬ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বরাবরের মতোই বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং জনতার মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে।

শেয়ারনিউজ/