Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

করপোরেট ট্যাক্স ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিমা অ্যাসোসিয়েশনের

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০১৭:

বিমা কোম্পানির ওপর বিদ্যমান করপোরেট ট্যাক্স ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করাসহ আরো ৫টি ইস্যুতে কর সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। বুধবার অ্যাসোসিয়শেনের প্রধান কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট পরবর্তী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর সুবিধার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পক্ষ থেকে অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল- জীবন বিমা কোম্পানির পলিসির ডিপোজিট হোল্ডারদের মুনাফার ওপর গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহার, বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অতিরিক্ত ব্যয়ের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, বিমা এজেন্টদের কমিশনের বিপরীতে উৎসে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও এজেন্টদের উৎসে কর প্রত্যাহার এবং করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে বিমাখাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কোন কোন দেশে জিডিপির ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখছে বিমা খাত। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ খাতের অংশগ্রহণ ১ শতাংশেরও কম। সরকারের প্রচলিত নিয়ম-কানুন বিমা বন্ধব না হওয়ায় বিমা খাত দেশের জিডিপিতে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারছে না।’
বাংলাদেশে বিমা খাত অবহেলিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। মানুষের কাছে ব্যাংকের গ্যারান্টির চেয়ে বিমা গ্যারান্টির গুরুত্ব কম। প্রতি বছর বিমা খাতের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্লেম (দেনা) পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু নেগেটিভ নিউজকে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করার ফলে এ খাতের প্রতি গ্রাহকরা আস্থা পাচ্ছে না।’

বাজেটে বিমা খাতে এ ৬ ধরনের কর সুবিধা দেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত দেশের বিমা খাতের উন্নয়ন এবং জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ কবির হোসেন।

তিনি আরো বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর বাজেটের আগের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয় দাবিগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে। এগুলো কমানো যৌক্তিক বলে মনে করে। কিন্তু কোনো সময় তা বাস্তবায়ন করে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমা খাত। এ বছর অর্থমন্ত্রী, সচিব এবং এনবিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছেন। তারাও নীতিগতভাবে কর কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিআইএ’র সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বিমা খাতের উন্নয়নে সরকার ও বিমা কোম্পানিগুলো কাজ করছে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে আগের তুলনায় বেশি করে বিমা দাবি পূরণ করছেন। গ্রাহকরা যাতে প্রতারিত না হন সে জন্য সজাগ রয়েছে বিআইএ।’

কিন্তু বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠার ৬ বছর পার হলেও বিমা খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সক্ষম হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

এ সময় সংগঠনের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, নূরুল আলম, মনিরুল হক (পাবেল) প্রমুখ।

শেয়ারনিউজ/আরপি/কে.আর