Print
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

গ্রাহকের পূর্ণ তথ্য জেনে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার আহ্বান



ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০১৭:

গ্রাহকের বিষয়ে পূর্ণ তথ্য জেনে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে খুবই পরিচিত একটি শব্দ হলো ‘কেওয়াইসি’ (আপনার গ্রাহককে জানুন)। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা ফান্ডামেন্টাল ইস্যু এবং ব্যাংকগুলোকে এটাই অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া ঋণ দেওয়ার পর যাতে কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০০তম সভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য গোকুল চন্দ্র দাস, শামীম আহসান, হাসিনা নেওয়াজ, অধ্যাপক ড. নিতাই চন্দ্র নাগ, কাশেম হুমায়ুন বক্তব্য রাখেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম ব্যাংকের বিভন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কথা যখনই বলা হয়, তখন শুধু তার বদনামই শোনা যায়। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, মূলধন ঘাটতি, প্রভিশনিং ঘাটতি ইত্যাদি। এগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের যে ভূমিকা রয়েছে সেটা অনেকেই জানে না। যত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে, সাধারণ মানুষ মনে করছে এগুলো সব সরকারই করছে। কিন্তু এসব উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে তা সাধারণ মানুষ জানে না। তাদেরকে এটা জানাতে হবে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সরকারকে কোন ফি ছাড়াই নানা ধরনের সার্ভিস দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী সার্ভিসের জন্য ব্যাংকগুলোকে একটি মূল্যমান নির্ধারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সার্ভিসের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে এটা জানাবেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করবো।


আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোতে ভালো লোক দেওয়া হয়নি স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। বর্তমানে বোর্ডে অনেক ভাল ভাল লোক দিয়েছি। এখন প্রতিটি বোর্ড কমপিটেন্ট এবং স্বাধীনভাবে কাজ করছে।


ব্যাংকের যেসব শাখা-প্রশাখা রয়েছে সেগুলোর পর্যবেক্ষণ ও পরীবিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সোনালি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ওপর সঠিক পর্যবেক্ষণ ও পরীবিক্ষণ না থাকার কারণে হলমার্ক কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে। যদি থাকতো তাহলে ঘটনা এতো বড় হতো না।


অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কোন কেলেঙ্কারির ঘটনায় শাস্তি দিলে আমরা খুশি হই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন শাস্তি দিতে হবে? শাস্তি দেওয়া বাহাদুরির কোন বিষয় নয়। যেন শাস্তি দিতে না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।


অনুষ্ঠানে খেলাপী ঋণ আদায়ের জন্য সম্মানি বা প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের পরিচালকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। এ বিষয়টি সমর্থন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা করা যেতে পারে, এটা হবে এক ধরনের স্বীকৃতি।


অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ব্যাংকের একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন ব্যাংকে সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক থাকবে? এটা খুবই বিব্রতকর ঘটনা। যদি কোন নির্দিষ্ট কারণ থাকে তাহলে সেটি ভিন্ন কথা। কিন্তু কোন কারণ ছাড়া পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে আমি নই।


খেলাপী ঋণ আদায়ে পুরস্কার দেওয়ার বিরোধিতা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। এটার জন্য আলাদা পুরস্কার দেওয়ার দরকার নেই।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির অগ্রণী ব্যাংকের সবকটি ব্রাঞ্চ অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং, রেমিটেন্স আহরণ ও এসএমই ঋণ বিতরণে অগ্রণী ব্যাংক এগিয়ে থাকার বিষয়টি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তবে ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ আড়াইগুনের বেশি উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি উদ্বেগের বিষয়। গত কয়েক মাসে আদায় ভাল হচ্ছে, এ জন্য আরও ড্রাইভ দিতে হবে। অগ্রণী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে ৮০ শতাংশই কু ঋণ এবং ২০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে এ ঋণ আটকে গেছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫ শতাংশ শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে।শ্রেণিকৃত ও অবলোপন ঋণ আদায়ে সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান গভর্নর।





শেয়ারনিউজ/এআর