Print
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

ওটিসি পুনঃগঠন : পুঁজিবাজার সংস্কার ও করনীয়

ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭:

পুঁজিবাজারের সাথে সম্পৃক্ত সচেতন মহলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো। উৎপাদনে নাই, তাই ব্যবসায়িক মুনাফার বদলে বাড়ছে পুঞ্জিভূত লোকসান। পাশাপাশি এক যুগেও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে নি কোম্পানি। তবুও টানা দর বাড়ছে কোম্পানিগুলো।

আবার কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিচালনা পর্ষদের স্বঘোষিত অনিয়মে ক্যান্সারে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। মুনাফার অব্যাহত পতনে সদ্য সমাপ্ত বছরেও ডিভিডেন্ড দিতে পারে নি। যার ফলশ্রুতিতে রয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। পাশাপাশি চলতি বছরে রয়েছে টানা লোকসানে এমন কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে।

ব্যবসায়িক মন্দায় যখন শেয়ার দর তলানিতে তখন উদ্যোক্তার মৃত্যুর খবরেও আজকাল শেয়ার দর বাড়ে। শুধু বেড়েই খান্ত হয়নি, বরং বার বার সর্বোচ্চ দরের রেকর্ড গড়ছে।

এতক্ষন যা বলেছি- তার পুরোটাই ঘুনে খাওয়া বর্তমান পুঁজিবাজারের অসুস্থ কিছু কোম্পানির কথা। যারা বছর শেষে ডিভিডেন্ড দিবে না, সেকেন্ডারি মার্কেটে যাদের শেয়ার লেনদেন হলেও ঘুরে না কারখানার চাকা। যারা গ্যাম্বলারদের জন্য কারসাজির রসদ জোগায়।

শুধু কোম্পানির দোষ দিয়েতো আমি দায়িত্ব এড়াতে পারি না। এর সাথে সম্পৃক্ত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। কেননা, ২০-৩০ কোটি টাকা খরচ করে এরা সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার ক্রয় করলেও কারসাজি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারে না। আমি এখানে সফটওয়্যারের দোষ দিয়ে সফটও্য়্যার নির্মতা কোম্পানি’র দোষ দিব না। আমি বলব-জেগে থেকে যদি কেউ ঘুমের ভান করে তাকে জাগানো যায় না।

ওটিসি মার্কেটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: ২০০৯ সালে ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতিতে লোকসানি, অনিয়মিত বার্ষিক সভা সম্পন্ন করে, উৎপাদন বন্ধ- মোটের উপর যে সকল কোম্পানি সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করছিল এমন ৬৬টি কোম্পানিকে নিয়ে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট তৈরি করা হয়।

মূলত, বাজার থেকে আবর্জনা পরিস্কার করতে ওই সময় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তৎকালীন এসইসি। যদিও গঠন প্রনালী ও কার্যক্রম নিয়ে লেখকের দ্বি-মত রয়েছে।

এটাকে পুঁজিবাজার সংস্কারের একটা নিয়ামক হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার আবারো ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারের বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আবারো একই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না এমন কল্পনা করার কোন অবকাশ নাই।

যদি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আবারো লোকসানি, উৎপাদন বন্ধ বা সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করছে এমন কোম্পানিগুলোকে ওটিসিতে স্থানান্তর করে। সেক্ষেত্রে যারা নেগেটিভ এনএবি ও পিই’রেশিও সম্পন্ন কোম্পানিগুলোতে উচ্চ মূল্যে বিনিয়োগ করছে তারা কি পথে বসবে না?

এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কি করনীয় তা তাদের নিজের পক্ষ থেকে যাচাই বাচাই করা উচিত।

শেয়ারনিউজ/জাহিদুর রহমান/