Print
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ: রিজেন্ট টেক্সটাইল ও দুই বন্ধু; তাদের খুজে বের করবে কে!




ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০১৭:
আমাদের দেশে এখনো যেকোন ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া একজনের দোষ বা অন্যায় অসহায় কিংবা দুর্বলদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটাও নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ সুযোগ পৃথিবীর কোথাও নেই, আমাদের দেশেও আজ হোক আর কাল হোক থাকবে না। তখন আজ যারা এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। সে হোক বড় কোন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্নধার কিংবা নীতি-নির্ধারনী সংস্থার উচ্চপদস্থ কোন কর্মকর্তা।


আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া কিংবা চলমান অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা কারোরই অজানা নয়। একটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরু করে শেয়ার লেনদেনে কারসাজি, আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে শেয়ার দরকে প্রভাবিত করাসহ বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড বঞ্চিত করার নতুন নতুন ফন্দিফিকির এখন খুবই সহজ বিষয়। অথচ প্রতিটি বিষয়ে আমরা বারবার লেখালেখি করলেও নীতি-নির্ধারনী মহলের টনকই নড়ছে না। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো একটি কোম্পানির অনিয়ম একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর চোখে খুব সহজে ধরা পড়লেও দীর্ঘ তদন্তেও নীতি-নির্ধারণী মহলের কর্তা-ব্যক্তিরা তার উদ্ঘাটন করতে পারে না।


কথাটা এজন্য বললাম যে, বিগত সময়ে অনেক কোম্পানিরই তালিকাভুক্তি অথবা রাইট ইস্যুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা এর যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা কানে নেয় নি আমাদের দেশের নীতি-নির্ধারক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এসব কোম্পানির অসৎ উদ্দেশ্য অর্জন করার পর নীতি-নির্ধারক সংস্থার পক্ষ থেকে নামমাত্র শাস্তির ব্যবস্থা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- দেশের গনমাধ্যম ও বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে যখন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে বা হচ্ছিল তখন বাজারের কর্তা-ব্যক্তিরা কোথায় ছিল। আসলেই তারা কি বিষয়গুলো বুঝতেই দেরি করেছে নাকি না ঘুমিয়েও ঘুমিয়ে থাকার ভান ধরেছে- তা কারোরই বোধগম্য নয়।


এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দরের উল্লম্ফন। যদিও এ কোম্পানিকে ঘিরে আলোচনার শুরুটা গত ১৫ এপ্রিল শেয়ারনিউজ২৪ ডটকম’‘৬৩ শতাংশ দর বেড়েছে এ কোম্পানির!’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে হলেও ১৭ এপ্রিল সেখানে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে একটি দৈনিক পত্রিকা।

এদিন ওই দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারসাজির সাথে জড়িত দুই বন্ধুর সম্পৃক্ততার কথা ওঠে এসেছে।


পাঠকদের সুবিধার্থে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের কিছু অংশ উল্লেখ না করলেই নয়। তাই নিচে প্রতিবেদনটির গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি লাইন হুবহু উল্লেখ করা হলো।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘রিজেন্ট টেক্সটাইলের দায়িত্বশীলরা না জানলেও শেয়ারদরের উলম্ফনের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, ইউসিবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রভাবশালী দুই বিনিয়োগকারীর ইচ্ছায় শেয়ারদর বাড়ছে। বড় পোর্টফোলিওধারী ওই দুই ব্যক্তি বিনিয়োগকারী একে অপরের বন্ধু, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার কিনে রেখেছেন। তাই ‘দৃশ্যমান কিংবা অপ্রকাশিত’ তথ্য না থাকলেও দুই বন্ধুর ইচ্ছাতেই রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর বাড়ছে। কয়েক মাস আগে কম দামে শেয়ার কিনে দর কয়েকশগুণ বাড়ানোর পর যে কোনো সময় শেয়ার বিক্রি করবেন ওই দুই বন্ধু। চলতি সপ্তাহেই তারা বেরিয়ে যেতে পারে- এমন তথ্যও মিলেছে।’


প্রতিবেদনটির বিভিন্ন ধাপে ইউসিবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রিজেন্ট টেক্সটাইলের বক্তব্য প্রকাশ করা হলেও ওই দুই বন্ধু কি ধরণের গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছে তা নিয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য প্রদান করা হয়নি। এমন কি প্রতিবেদনে ওই দুই বন্ধুর নামও প্রকাশ করা হয়নি।


ওই দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের অনেকেই শেয়ার নিউজকে২৪ ডটকমকে ফোন দিয়ে ওই দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার কারণ জানতে চায়। যদিও শেয়ার নিউজ কর্তৃপক্ষ এ নিউজটি প্রকাশ করেনি বলে বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দেয়।

আবার অনেক বিনিয়োগকারী এটাও জানতে চেয়েছে যে, এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছে কি-না? আদৌ এর কোন তদন্ত কিংবা বিচার হবে কি-না? আর তা যদি না-ই হয় তবে, এ দুই বন্ধুকে খুজে বের করবে কে?


তবে আমি মনে করি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সাধারণ বাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করাটাই বিএসইসির প্রধান কাজ; সেহেতু বাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুজব ও কারসাজিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সববিষয়গুলো নজরদারিতে আনা প্রয়োজন। সেজন্য প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে কিংবা বিএসইসির নিজস্ব একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। তবে এর সদস্যরা হতে হবে সৎ ও নির্ভীক। তাদের কার্যক্রমে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করে তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে পারলেই পুঁজিবাজারের কারসাজি ও অনিয়ম নির্মূল করা সম্ভব হবে। তবে এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। কথায় আছে ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।’ নীতি-নির্ধারনী মহলসহ আমরা সবাই যদি সচেতনতার সাথে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই, তবে এ বাজারকে উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক এবং এই দেশটিকে দূর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।



-হাসান কবির জনি

নির্বাহী সম্পাদক
শেয়ারনিউজ২৪ ডটকম




রিজেন্ট টেক্সটাইলের আগের নিউজটি পড়ুন: ‘৬৩ শতাংশ দর বেড়েছে এ কোম্পানির’