Print
প্রচ্ছদ » বিনিয়োগকারীর কথা

যে কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা, ০৬ আগস্ট ২০১৭:

পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বারং বারই লোকসান করে। তা নিয়ে বিনিয়োগকারী আব্দুল মতিন চয়ন লিখেছেন। তার লিখা সামান্য সংশোধন করে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো :--

আমাদের দেশের শেয়ার বাজার অনেক দিন ধরেই চলমান। কিন্তু এই বাজারের ছবি আমার এই উদাহরণ এর মাধ্যমেই সহজে অনুমেয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একটি খোলা চারিদিকে ঘেরা মাঠে দশ থেকে বারটি বড় মহিষ ছিল এবং একশ থেকে একশ দশটি ছাগল ছিল। প্রতিদিন বড় মাপের খাবার ওখানে দেওয়া হচ্ছিল। প্রাচীরে ঘেরা মাঠে বড় বড় খাবর খেয়ে মহিষগুলো মোটা তরতাজা হয়ে গেল। অন্যদিকে, কিছু ছাগল কোন রকম খেয়ে পরে বেচে থাকল। বাকী ছাগলগুলো মরে গেল।

অবশেষে কি আর করার আছে মরা ছাগলগুলো মাঠ থেকে বাহির করে পুনরায় নতুন ছাগল ঠুকান হল এবং সেই একই অবস্থা হতে থাকল। আর এই উদাহরণই হচ্ছে আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে যেখানে আমরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হলাম ছাগল আর বড় বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হল মহিষ। যেই বাজারে প্রতিনিয়ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা মার খাচ্ছে কিন্তু বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়না।

বর্নিত প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের হাতে অনেক টাকা থাকে এবং তাদের portfolio তে সব সময় অধিকাংশ শেয়ার ম্যাচিউরড থাকে। তারা দিনের কোন এক ভাগে কিছু শেয়ার হাই রেটে কিনে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দেয়। তারপর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হাই রেটে শেয়ার কিনতে থাকে। এই সুযোগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার ১ম দিন এবং ২য় দিন বিক্রয় করে দেয় অধিকাংশ শেয়ার। এটা তাদের পলিসি আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ৩য় দিনে শেয়ারের দাম দেখতে পায় কেনার চাইতেও কম দাম।

বর্নিত উদাহরণ অনুযায়ী এখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মহিষের মতন আচরন আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হল ছাগলের মতন আচরণ করে। আর এভাবেই ক্ষুদ্র এবং বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা বৈষম্য দেখা দিয়েছে।

এমনিতে তারা ডে-ট্রেডারের ভূমিকায় চলছে। তারপর মিনিটে মিনিটে নিটিং করছে যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্যে মরার উপর ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জন্যে আমরা তাদেরকে বা তাদের পলিসিকে দায়ী করতে পারিনা। কারন সবাই ব্যাবসায় লাভ চাই আর সেটা তারা আইনের মধ্যে থেকেই করছে বরং এর জন্যে দায়ী আমাদের সিস্টেমস। সুতরাং এই অবস্হা থেকে পরিত্রাণ দরকার। আর এই বৈষম্য দূর করতে চাই BSEC এবং DSE এর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ সেটা হল অতি দ্রত T-0 অথবা T-1 বাস্তবায়ন করা । সবচাইতে ভাল হয় যদি T-0 অথার্ৎ কোন শেয়ার কেনার পরই বিক্রির সুযোগ যেটা পৃথিবীর অনেক দেশেই বিদ্যমান।

তাহলে বড় ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোন বৈষম্য থাকবেনা। দেশ যেহেতু এখন ডিজিটাল ব্যাংক ব্যবস্থা অনলাইন সেহেতু এটা চালু করা এখন সময়ের দাবী এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে বারবার ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে হলে BSEC এবং DSE এর উচিত অতি দ্রুত T-0 চালু করা । আর এটা চালু করলে ১০০% নিশ্চিত যে ছয়টি উপকার হবে।

১.বাজার অতিমুল্যায়িত হবেনা। ২. বড় ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৈষম্য থাকবেনা। ৩. জুয়াড়িদের কারসাজি কমবে। ৪. ক্ষুদ্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। ৫. বাজারে তারল্য বাড়বে। ৬. বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা এবং তাদের লাভ এবং লসের মাত্রা সীমিত থাকবে।

কিন্তু টাকা উত্তোলনের সময় হেরফের করা যেতে পারে । কোন কারনবশত T-0 করা না গেলেও T-1 করা যেতে পারে। অতএব এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

মোঃ আব্দুল মতিন চয়ন ।

ইনভেস্টার গ্লোব সিকিউরটিজ রাজশাহী শাখা এবং ICML রাজশাহী শাখা ।

শেয়ারনিউজ/ডেস্ক/কে.আর