Print
প্রচ্ছদ » বিনিয়োগকারীর কথা

শেয়ার ব্যবসার আগে যা অবশ্যই করবেন

ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০১৭:

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ মিলাতে বাড়তি আয়ের আশায় পুঁজিবাজারমুখী হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয় বিনিয়োগকারীদের। তাই বিনিয়োগের আসার আগে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা উচিত।

এ বিষয়গুলো লিখেছেন বিনিয়োগকারী বিল্লাল হোসেন। তার লিখা সামান্য সংযোজন ও সংশোধনের মাধ্যমে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো-

শেয়ার ব্যবসার আগে যা অবশ্যই করবেন

১-শেয়ার কেনার আগে অবশ্যই ফান্ডামেন্টাল ও টেকনিক্যাল এনালাইসিস করুন ৷ঐ শেয়ার বাজার পরিস্হিতিও বিবেচনায় আনুন ৷তার পর বিনিয়োগ করুন ৷

২- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে ঐ কোম্পানি সম্পর্কে সমস্ত খোঁজখবর রাখুন ৷ কোম্পানি ব্যবসায়িক অবস্থা ,লাভ ক্ষতির হ্রাস বূদ্ধির সার্বক্ষনিক খবর রাখুন কেননা আপনি ঐ কোম্পানি কিনতে যাচ্ছেন ৷

৩-দাম পড়তে গুরু করলে অল্প লোকসানে শেয়ার ছেড়ে দিন৷ঐ টাকা আন্য শেয়ারে বিনিয়োগ করুন৷ লোভ হতে বিরত থাকা উত্তম। নতুবা বড় মাসুল দিতে হতে হয়।

৪-মার্কেট যখন কারেকশন হয়, ঐ সময় কেনার মত কিছু অর্থ হাতে রেখে ব্যবসা করুন৷

৫-কোন শেয়ারের দাম যখন বাড়তে থাকে তখন ধরে ছাড়ুন৷ আর দাম যখন কমতে থাকে তখন ছেড়ে তারপর ধরুন৷

৬-সময়ের প্রয়োজনে কৌশল পাল্টান৷ সব শেয়ারের ক্ষেত্রে একই কৌশল খাটে না৷

৭-কোন কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে একজন গোয়েন্দার মতো ঐ কোম্পানির সব কিছু জেনে নেবার চেষ্টা করুন ৷

৮-সিন্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে৷ কম ক্ষতিতে দ্রুত ভুল গুধরে নিন ৷

৯-কোন শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়তে থাকলে বা অস্বাভাবিক কমতে থাকলে কারণ অনুসন্ধান করুন ৷গেম্বলারদের কারসাজি কিনা বুজতে চেষ্টা করুন৷ আপনি চেষ্টা করলে এই অস্বভাবিকতার মধ্যেও যথেষ্ট আয় করতে পারবেন৷

১০-বেশির ভাগ মানুষই সমস্যা বা অস্বভাবিকতার সামনে ভেঙ্গে পড়ে৷ এটা মানুষের স্বাভিবিক মানসিকতা ৷এটার বিপরীতে অর্থাৎ এটাকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করুন৷

১১-শেয়ার কেনার আগে ইপিএস, পিই রেশিও, শেয়ার প্রতি সম্পদ এবং এজিএম এর সময় এবং বিগত এক বছরের খাতিয়ান দেখে নিন৷

১২-শেয়ারবাজারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করা যায় না৷ তড়িৎ তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন৷

১৩-বাজার যখন আতঙ্কিত তখন শেয়ার কিনতে থাকুন ৷

১৪-শক্ত মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার কিনুন, যেটি অবমূল্যায়িত অবস্থায় আছে৷

১৫-প্রতিমাসে একটা নিদ্দিষ্ট পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করুন৷

১৬-শেয়ার কেনা বেচাকে একটা গেইম হিসাবে নিন এবং ভালো স্কোর করতে থাকুন বেশ মজা পাবেন৷ প্রত্যেক ব্যবসায়ীরই নিজস্ব কিছু নিয়ম বা ফরমুলা থাকে৷ আপনার নিজস্ব নিয়মে অটল থাকুন৷ অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না ৷ আবেগ তাড়িত হবেন না এবং কোনভাবেই অন্যকে অনুসরন করবেন না৷

১৮-মার্কেট যখন খুব চাঙ্গা হয়ে উঠবে,তখন হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিয়ে মার্কেট পতনের জন্যে অপেক্ষায় থাকুন৷ মনে রাখবেন, এই চাংগা সময়ে দয় পতনের বিষয়টি বেশিরভাগ লোকই চিন্তা করে না ৷এটা মানুষের স্বাভাবিক মানসিকতা ৷

১৯-মার্কেট যখন চাঙ্গা হত শুরু করে তখন থেকেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন কিস্তিতে শেয়ার কিনতে থাকুন ৷ মনে রাখবেন, একই সাথে সবগুলো শেয়ারের দাম বাড়ে না এবং সবগুলো শেয়ারের দাম একই সাথে কমেও না ৷

২০-কোম্পানির ডিভিডেন্ড গ্রহন করবেন কিনা ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন ৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রেকর্ড ডেট আগে দাম বূদ্ধির চরম পর্যায়ে শেয়ার ছেড়ে দেওয়াই উওম ৷ ধরতে চাইলে রেকর্ড ডেটের পরে ধরুন৷

২১- মার্কেট ট্রেড খেয়াল করুন৷কেননা কিছু শেয়ারের দাম বারছে আরো বাড়ার জন্যে, আর কিছু শেয়ারের দাম বাড়ছে আরো কমার জন্যে ৷

২২-শেয়ার বাজারের নেতিবাচক এবং ক্ষতির দিকগুলো আগে জানুন, যদি শেয়ার বাজার থেকে লাভবান হতে চান ৷

২৩-পত্র-পত্রিকা,ইলেক্টনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেট থেকে সার্বিক পরিস্থিতির দেখুন ৷ বিশ্লেষন করুন ৷ এখানে প্রতিদিনই নানা নিউজও চলমানা থাকে, সেগুলোও পড়ুন ৷মোট কথা তথ্যের দিক থেকে আপডেট থাকুন৷ শেয়ার বাজার তথ্য সংক্রান্ত বাজার ৷যার কাছে যত তথ্য আছে সে তথ্য এগিয়ে থাকবে৷

লেখক : বিল্লাল হোসেন, বিনিয়োগকারী