Print
প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার

‘ব্যাংকগুলোর হাতে কি আলাউদ্দিনের চেরাগ আছে’

ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭:

দেশে ব্যবসারত বেসরকারি ব্যাংকগুলো বছর শেষে ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা ব্যবসা করছে। ব্যাংকগুলোর উচ্চ মুনাফার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিল্পকলা মিলনায়তনে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগের উপর ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে। যার ফলে বছর শেষে ব্যাংকগুলো ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। কিন্তু ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু ব্যবসা করা না। বরং সেবা প্রদান করাও তাদের দায়িত্ব।

সম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক সুদের হার কমেছে উল্লেখ্য করে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সুদের হার কমার পেছনে বাংলাদেশে ব্যাংকের কোনো কর্তৃত্ব নেই। মানি মার্কেট কন্ডিশন ব্যাংকগুলোকে সুদের হার কমাতে বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক মানসিকতা থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা কৃষকদের ঋণ দেয়ার কথা ভাবছে না। বছর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলো শহরাঞ্চলে নতুন নতুন ব্র্যাঞ্চ খুললেও গ্রামাঞ্চলে যাচ্ছে না।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাজারের সাথে জড়িতদের আরো সচেতন হতে হবে। বিদেশিরা আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে এ বিষয়ে পড়াশোনা করে। অভিজ্ঞতা নিয়ে বিনিয়োগ করে।

পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে জনগণের মাঝে বিভিন্নরকম ধারণা আছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের প্রতি রয়েছে অনাস্থা। তাই পুঁজিবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন জরুরি। কারণ বিনিয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে সফলতা আসবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ৯ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি সার্বিকভাবে স্থিতি অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সবচেয়ে স্থিতিশীল বলা হচ্ছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে গতবছর ৭.২ হয়েছে। আগামী বছর আশা করছি ৭.৪-এর বেশি হবে। এ অর্জনের পেছনে পুঁজিবাজারের অবদান রয়েছে।

বিদেশি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে বাধ্যবাধকতা নেই উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বাধ্য থাকাটা খুবই জরুরি। ভারতে পুঁজিবাজারে আসতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর যেসব কোম্পানি এসেছে তাদের শেয়ার সামান্য, (৫ থেকে ১০ শতাংশ) এটা বাড়াতে হবে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বাড়লে আমাদের শেয়ারবাজারের গ্রোথ অনেক বেশি হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান ড. এ কে মোমেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে এ এম মাজেদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের ছায়দুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান।