Print
প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার

বাংলাদেশের জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ: বানিজ্যমন্ত্রী





ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭:

বাংলাদেশের জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালে মার্কেটে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সঠিক নেতৃত্বের কারণে আজ মার্কেট স্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজায় বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,পুঁজিবাজারে উন্নতির জন্য বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি বড় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, এই বাজারে গভীরতা তথা স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ করা উচিৎ।


পুঁজিবাজারে কোনো নতুন কোম্পানি আসলে তার ব্যবসায়িক ক্ষতি না করার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যেন আবার সুযোগ-সুবিধা চেয়ে কোম্পানির ক্ষতি না করি; সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।


নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দেশের বাজারে বাড়লে সবাই খেয়াল রাখে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি যে তা কেউ খেয়াল রাখে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলে আমাদের দেশেও দাম বৃদ্ধি পায়। কারণ কেউ বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করবে না।তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা আর বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিক করা এ দুইটি স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধু কন্যার শেখ হাসিনারও দুইটি স্বপ্ন রয়েছে। একটি বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করা এবং অপরটি ২০২১ সালে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তব।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। আজকে সেটা ১৫ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। ৮২ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করে। ২০২১ সালের আগেই শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করবে।


তিনি বলেন স্বাধীনতার পরে আমাদের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। বর্তমানে ৪ লাখ ২০৬ কোটি টাকা। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবছর প্রাকৃতিক দুযোর্গের কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগরিই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।


পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে কীভাবে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সুদের হার সবার চেয়ে বেশি। এ কারণে আমাদের এফডিআর কমে গেছে। তাহলে মানুষ করবে কী? মানুষ ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করেছে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সকলকে সর্তক থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দেশে অর্থনীতির বড় শক্তি ব্যাংক। ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সর্তক থাকতে হবে। এক সময় ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ব্যাপক ব্যবসা করেছে।তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমরা এ হাহাকার, আর্তনাদ শুনি না। সেজন্য মার্কেট সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একটি দেশের অর্থনীতি সৃষ্টিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হতে বাধ্য।


তোফায়েল বলেন, বিএনপি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে সফল হয়নি। ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি আদালতে গিয়েছেন আর তার সমর্থকরা গাড়ি ভাংচুর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ না। এ ধরনের ধ্বংসাত্বক পরিস্থিতির জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে।



শেয়ারনিউজ/