Print
প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার

ব্যাংকিং খাতের ৬৩.৩৩ শতাংশ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

ঢাকা, ১৭ মে ২০১৭:

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ১৭) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্যাংকিং খাতের তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংক। প্রথম প্রান্তিক শেষে এ খাতের ৬৩.৩৩ শতাংশ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে বাজারের মৌলভিত্তির ও বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বেশি। তাই এখাতের শেয়ার দরের ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাজারের লেনদেনেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ হয়েছে যে ৩০টি ব্যাংকের, তার মধ্যে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি ভাল করেছে ১৯টি ব্যাংক। এর মধ্যে গত বারের চেয়ে ১০০ শতাংশের বেশি আয় বেড়েছে চারটি ব্যাংকের। গত বারের চেয়ে লাভ কম করেও লাভে আছে ৯ ব্যাংক। আর লোকসানে দুটি ব্যাংক।

জানা যায় প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে-ব্যাংক এশিয়া, ব্রাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটজ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়াম ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের।

ডিএসই তথ্যানুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারী-মার্চ’১৭) ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪০ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.২১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১৯ টাকা বা ৯০.৪৭ শতাংশ।

ব্রাক ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৬২ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৯৮ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৬৪ টাকা বা ১০০ শতাংশ।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬০ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১৭ টাকা বা ৩৯.৫৩ শতাংশ।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৩৪ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.২৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১১ টাকা বা ৮.৯৪ শতাংশ।

ফার্স্ট সিকিউরিটজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫১ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৪০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১১ টাকা বা ২৭.৫০ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫৬ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.০৪ টাকা বা ৭.৬৯ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬২ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১২ টাকা বা ২৪ শতাংশ।,

যমুনা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৯ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.২৯ টাকা বা ২৯০ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০৮ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৪৯ টাকা বা ৮৩.০৫ শতাংশ।

এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৮ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৪ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.০৪ টাকা বা ১১.৭৬ শতাংশ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৭ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ০.২১ টাকা। প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৩৫ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৭৩ টাকা বা ১১৭.৭৪ শতাংশ।

প্রিমিয়াম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৩ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১৬ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.২৭ টাকা বা ১৬৮.৭৫ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৮ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.২৭ টাকা বা ৫২.৯৪ শতাংশ।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৬ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৭ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৩৯ টাকা বা ১০৫.৪০ শতাংশ।

রুপালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪২ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.২৫ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১৭ টাকা বা ৬৮ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫১ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৩৮ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১৩ টাকা বা ৩৪.২১ শতাংশ।

সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৯৬ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৩৭ টাকা বা ৬২.৭১ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.১৫ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.০২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে ০.১৩ টাকা বা ১২.৭৪ শতাংশ।

কমেছে যেসব ব্যাংকের আয়

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ৫ শতাংশ। চলতি বছর সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.২০ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে হয়েছিল ০.২১ টাকা।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এই ব্যাংকটির আয়ও সামান্য কমেছে। গত বছর প্রথম প্রান্তিকে আয় ছিল ৭৩ পয়সা। এবার ৯.৫৮ শতাংশ কমে একই সময়ে তা হয়েছে ৬৬ পয়সা।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক: এই ব্যাংকের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত মুনাফা কমেছে ১২ শতাংশ। চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২.৯১ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৩.২৯ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস কমেছে ০.৩৮ টাকা।

সিটি ব্যাংক: প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির মুনাফা কমেছে ১৫ শতাংশ। গত বছর প্রথম প্রান্তিকে এই ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৭৯ পয়সা। সেটি এবার কমে হয়েছে ৫৬ পয়সা।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭১ পয়সা, যা গত বছর ছিল ৯১ পয়সা। অর্থাৎ চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কমেছে ২০ পয়সা বা ২৮ শতাংশ।

এবি ব্যাংক: প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে ৩৫ পয়সা, যা গত বছর ছিল ৯৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এবার অর্ধেকেরও কম আয় করেছে এবি ব্যাংক।

এসআইবিএল: এই ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিকে আয় কমেছে ৫০ শতাংশ। গত বছর প্রথম তিন মাসে আয় ছিল ২০ পয়সা। সেটি কমে এবার দাঁড়িয়েছে ১০ পয়সায়।

ইউসিবি: বেসরকারি খাতের আরেক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল লাভে থাকলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে ৭৬ শতাংশ। চলতি বছর প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪২ পয়সা।

উত্তরা ব্যাংক: প্রথম প্রান্তিকে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয় সহ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭২ টাকা এবং এককভাবে ইপিএস হয়েছে ০.৭১ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ০.৭৪ টাকা এবং এককভাবে ০.৭৪ টাকা।

শেয়ার প্রতি সমন্বিত নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ৪.০৬ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সমন্বিত প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৩৪.২৭ টাকা।

লোকসানে দুই ব্যাংক

এক্সিম ব্যাংক: বেশিরভাগ ব্যাংক যখন গত বছরের চেয়ে বেশি লাভ করেছে, চলতি বছর সেখান থেকে ব্যতিক্রম এক্সিম ব্যাংক। প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.৫৩ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.০৬ টাকা।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংক: দীর্ঘ দিন ধরে লোকসানে থাকা ব্যাংকটি এখনও এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরের প্রথম তিন মাসে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১২ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যা ছিল ১১ পয়সা।

শেয়ারনিউজ/আর.পি/কে.আর