প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও গত সপ্তাহে অনেকটা ভালো কেটেছে দেশের শেয়ারবাজার। বাজারের খানিকটা উন্নতি হওয়ায় নির্জীব হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সাথে সাথে বেড়েছে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ও। বাজারের এই পরিবর্তনে ঘুরে দাঁড়ানোর
টানা আড়াই বছর ধরে পতনের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। মাঝে মাঝে উত্থানে উঁকি দিয়ে আবার পতনেই চলে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবার বাজারে উত্থান প্রবণতায় উঁকি দিচ্ছে। যা বিনিয়োগকারীদেরকে আশান্বিত করছে।
নিবু নিবু করে চলতে চলতে অবশেষে কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে দেশের উভয় শেয়ারবাজার। গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া এবং উত্থান পতনে স্বাভাবিক গতি থাকায় একটি ধারাবাহিক বাজারের প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ এপ্রিল থেকে বাজারে
৪ দিন ধরে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আতঙ্কে রয়েছেন খুলনাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে সিডর আইলা বিধ্বস্ত এলাকাবাসীরা বেশি ভীত হয়ে পড়েছেন। যে কোন মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে এমন শঙ্কায় তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে খুলনার স্থানীয় সিকিউরিটিজ হাউজ গুলোতেও।
কয়েকদিন ধরে বাজার কিছুটা ইতিবাচক ধারায় চলছে। তবে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজারের বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটেনি। এ অবস্থায় খুলনার বিনিয়োগকারীরা অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন। ফলে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালের ধসে
দীর্ঘ দিন ধরে একটানা পতনে রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। মাঝে মধ্যে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও তা উল্লেখ করার মতো নয়। তবে গত কয়েক দিনে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় খুলনার স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা শঙ্কাযুক্ত নয়, সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বাজারের প্রত্যাশা করেছেন।
ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বাজার। যার কারণে বাড়তে শুরু করেছে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। বাজারের এ খানিকটা পরিবর্তনে নড়ে চড়ে বসছেন লোকসানের ভারে ন্যুব্জ খুলনার বিনিয়োগকারীরা। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী মোস্তাফিজুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সরকারের পুনঃঅর্থায়ন এবং সূচক ধরে রাখতে
অব্যাহত পতনে হতাশ ও আস্থাহীনতায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। সর্বস্ব হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন চোখে সরষের ফুল দেখতে শুরু করেছে। অব্যাহত পতনের মধ্যেও গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজার উত্থান প্রবণতায় পার করেছে। টানা তিন সপ্তাহ পতনে পরে এ উত্থান। এ উত্থানে বাজারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেনা বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বরং বিগত আড়াই বছরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গী হয়েছে আতঙ্ক। ভয়াবহ ধসের পর কোনো অবস্থাতেই পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেনা বাজার। লোকসানের বৃত্ত থেকেও বেরিয়ে আসতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। বরং বিনিয়োগকারীদের নিত্য সঙ্গী হয়েছে আতঙ্ক
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ১৮ দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের দ্বিতীয় দিনে খুলনার হাউজগুলোতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। যান চলাচল স্বাভাবিক থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা হাউজগুলোতে উপস্থিত হতে পেরেছেন। ফলে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে তেমনি লেনদেনের গতিও অনেকটা স্বাভাবিক।