ঢাকা, জানুয়ারি ২৯: পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করতে এবার ওয়াশিংটন যাবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন যেতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে সময় চেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী মুহিত এবিষয়ে বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে সময় চেয়েছি। তবে এখনও পাইনি। তিনি যখন সময় দেবেন, তখনই আমি ওয়াশিংটন যাবো।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা এখনও বিদ্যমান প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছি। কারণ, আমরা এটির কাজ দ্রুত শুরু করতে চাই। বর্তমান প্রকল্প যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তাতে বিশ্বব্যাংক সম্মতি দিলেই ১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে। তবে বিশ্বব্যাংক না আসলেও কোনো সমস্যা নেই। অন্যদের নিয়ে প্রকল্প হবে।”
তিনি বলেন, “অর্থায়ন একটু কঠিন হলেও সম্ভব হবে। কারণ, আজকের বাংলাদেশ আর ২০০৬/০৭ সালের বাংলাদেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।”
তিনি আবারও বলেন, “বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে আসবে। তবে সমস্যাটা ‘সময়’ নিয়ে। আমার দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই।”
বিশ্বব্যাংক ছাড়া অন্য দাতারা প্রকল্পে থাকবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি সেই চেষ্টাই করছি। সফল বা ব্যর্থ হলো বলবো।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিকল্প অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। চীনের একটি প্রস্তাব আছে। সেটিও বর্তমান প্রকল্পের মতো। ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ডলার। সুদের হারও একই। ডেভেলপমন্টে ব্যাংক অব চায়না এতে বিনিয়োগ করবে। তবে শর্তগুলো নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প। তাই, নতুন করে চুক্তি করতে হবে। এগুলো সময়সাপেক্ষ।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নতুন করে প্রকল্পের কথা বলেছেন, তাতেও সময় লাগবে। তিনিও সেটি বলেছেন। ৬ মাস সময় লাগতে পারে। সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।”
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) নিয়ে প্রকল্প সর্বোৎকৃষ্ট হবে। তবে এখান থেকে যদি একজন খসে পড়ে যায়, সেটি সমস্যা নয়। তবে অর্থায়নে কষ্ট হবে।”
অন্যদিকে, পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন নিয়ে কথা বলতে এর আগে ওয়াশিংটনে যান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।