ঢাকা, জানুয়ারি ২৯: আমরা বাজার নিয়ে কারো আশার সৃষ্টি করতে চাই না। তবে কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করবে। বাজার যখন স্থিতিশীলতার দিকে যাবে তখন কঠোর নজরদারি করতে হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
গতকাল পুঁজিবাজারের লেনদেন খরা এবং চলমান অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে ডিএসই’র কনফারেন্স রূমে স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফেডারেশন অব চেম্বারর্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সংকট উত্তরণে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ব্যাপারে আজ দুপুরে ডিএসইতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, গঠিত কমিটির কোনো নাম দেয়া হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক হলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, বিআইয়ের সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু, বিএপিএলসির সভাপতি তপন চৌধুরী, এবিবি’র সভাপতি নূরুল আমীন, বিএমবিএ’র সভাপতি মো. এ হাফিজ, বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান এবং ডিএসই থেকে মনোনীত ব্রি. জে. ওয়াকারু্জ্জামান। কমিটির কাজে সমন্বয় করবেন ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, বাজার স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব স্টেকহোল্ডারদের। সবাই নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করলে বাজার অবশ্যই স্থিতিশীল হবে। এজন্য কোনো স্টেকহোল্ডার কারো কাছে কিছু চাইবার আগে নিজের সঠিক অবস্থা যেন নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্টেকহোল্ডার এবং বাজার সংশ্লিস্টদের সঙ্গে আলোচনার পর বাজারের বর্তমান সমস্যার পেছনে যে জিনিসটি উঠে এসেছে তা হলো- যারা বাজার স্থিতিশীল করতে বেশি ভূমিকা রাখেন তারাই হতাশায় ভূগছেন।
রকিবুর রহমান বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক ব্রোকারদের ডিসক্রিশনারী সক্ষমতায় তাদের পোর্টফলিও পুর্ণগঠন অথবা পুণবির্ন্যাস করা যেতে পারে। ডিসক্রিশনারী একাউন্টের অধীনে স্টক ব্রোকার/মার্চেন্ট ব্যাংক মার্জিন ঋণগ্রস্ত (যাদের ইক্যুইটি মাইনাস) বিনিয়োগকারীদের হিসাব পরিচালনা করবে। তবে যে কোনো করপোরেট ঘোষণা যেমন ক্যাশ ডিভিডেন্ড, স্টক ডিভিডেন্ড, রাইট শেয়ার ইস্যু, রিপিট পাবলিক অফার ইত্যাদি বিনিয়োগকারীর অনুকূলে যাবে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুরোধ করা হবে।
ডিএসই প্রেসিডেন্ট বলেন, টায়ার-১ এবং টায়ার-২ অনুযায়ী মূলধন নির্ধারণ করে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ নির্ধারণে অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করবে ডিএসই।
রকিবুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারবান্ধব মূদ্রানীতি এবং অন্যান্য বিষয়ে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দেবে।
ডিএসই প্রেসিডেন্টের মতে, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেসব কোম্পানি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে সেগুলোর অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপ পর্যায়ে গেছে। তিনি এর সমালোচনা করে বলেন, নিশ্চয়ই সে সময় খারাপ কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাই যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারের স্বার্থে কাজ করবে না তাদেরকে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে দেয়া ঠিক হবে না।
বাংলাদেশ ফান্ডের যে আনডিসক্লোস মানি রয়েছে সেগুলোকে বাংলাদেশ ফান্ডে দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হবে বলে ডিএসই প্রেসিডেন্ট জানান।
এছাড়া আগামী ৬ মাসের মধ্যে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন পাশ হতে পারে বলেও জানান ডিএসই প্রেসিডেন্ট।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, পরিচালক আবদুল হক, পরিচালক আহসানুল ইসলাম টিটু, সিএফও শুভ্র কান্তি চৌধুরী, পরিচালক হানিফ ভুইয়া প্রমুখ।